সারাদেশ
ধস্তাধস্তির ঘটনায় শিক্ষক দম্পতিকে ফুলবাড়ীয়ার দুই প্রান্তে বদলি
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে শিক্ষক দম্পতির ধস্তাধস্তির ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁদের দুজনকেই একই উপজেলার দুই প্রান্তের দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এর আগে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনকে বদলি করা হয়। এবার বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আফজালপুর রহমানকেও বদলি করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষককে উপজেলার সর্বদক্ষিণের কাহালগাঁও দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রধান শিক্ষককে সর্বউত্তরের বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষক দম্পতির বিরোধের ঘটনায় দুজনকেই পৃথক প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হলো।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। একই সঙ্গে তাঁকে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের কাহালগাঁও দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।
গত ৫ অক্টোবর ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রী সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত শুরু করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁদের দুজনকে পৃথক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজালপুর রহমান ও সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের মধ্যে প্রায় এক যুগ ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে সেই বিরোধের প্রভাব বিদ্যালয়ের পরিবেশেও পড়ে। তাঁদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই বিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটত। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিরোধের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকে। অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে ভর্তি করান।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন জানান, আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এর আগে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তাঁকেও উপজেলার অন্য একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।