সারাদেশ

জামায়াতের উপহারের সেলাই মেশিন ফেরত দিলেন প্রয়াত বিএনপি নেতার স্ত্রী


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

জামায়াতের উপহারের সেলাই মেশিন ফেরত দিলেন প্রয়াত বিএনপি নেতার স্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রয়াত বিএনপি নেতার অসচ্ছল পরিবারকে উপহার দেওয়া সেলাই মেশিন ফেরত দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেলাই মেশিন দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেটি ফেরত দেন ওই নেতার স্ত্রী ঝুমা আক্তার। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। তবে সেলাই মেশিন ফেরত দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক চাপ ছিল কি না, তা নিয়ে জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর জামষাইট গ্রামে প্রয়াত বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামের বাড়ি থেকে সেলাই মেশিনটি ফেরত নেওয়া হয়। এ সময় বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ঝুমা আক্তার এক ভিডিও বার্তায় জানান, তার স্বামীর এক বন্ধু তাকে সেলাই মেশিনটি উপহার দিয়েছেন বলে তিনি জানতেন। কিন্তু এটি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, তা তার জানা ছিল না। পরে বিষয়টি জানতে পারেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর তিনি সেলাই মেশিনটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে নিজেকে বিএনপি পরিবারের সদস্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ইউনিয়ন জামায়াতের পক্ষ থেকে অসচ্ছল পরিবারটির জন্য সেলাই মেশিনটি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারটি মনে করে, এতে তাদের পারিবারিক মানসম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ কারণে ঝুমা আক্তার তাকে ফোন করে সেলাই মেশিনটি নিয়ে যেতে বলেন। পরে শনিবার সকালে সেটি ফেরত নেওয়া হয়।

কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রয়াত বিএনপি নেতার পরিবারটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় মানবিক বিবেচনায় তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর আগেও পরিবারটিকে গোপনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে সহযোগিতা করতে গিয়ে পরিবারটি কোনো ধরনের রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনো চাপের মুখে পড়ুক, তা তারা চান না বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের দাবি, মাওলানা ইদ্রিস আলী ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার বন্ধুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সেলাই মেশিনটি দিয়েছিলেন। পরে বিষয়টিকে জামায়াতের সহায়তা হিসেবে প্রচার করায় বিতর্ক তৈরি হয়। এতে তাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে পরিবারটি মনে করেছে। এ কারণেই সেলাই মেশিনটি ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আনোয়ার হোসেন আরও জানান, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনের উদ্যোগে ওই পরিবারের জন্য শৌচাগার নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন ও বাড়ি মেরামতের কাজ চলছে। পাশাপাশি ঝুমা আক্তারের স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী বলেন, সেলাই মেশিন ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। জামায়াত দলমত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। তবে বিএনপির কেউ চাপ প্রয়োগ করে সেলাই মেশিনটি ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকলে, সেটি তাদের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, সেলাই মেশিন ফেরত দেওয়ার পেছনে কোনো রাজনৈতিক চাপ ছিল না। তার দাবি, ওই নারীর স্বামীর এক বন্ধু ব্যক্তিগতভাবে তাকে সেলাই মেশিনটি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হলে ঝুমা আক্তার ক্ষুব্ধ হন এবং মেশিনটি ফেরত দেন। পরিবারটির জীবিকা নির্বাহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঝুমা আক্তারের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উত্তর জামষাইট গ্রামে প্রয়াত সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী ঝুমা আক্তারের হাতে সেলাই মেশিনটি তুলে দেন জামায়াতের স্থানীয় নেতারা। সাইফুল ইসলাম বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তিন মেয়েকে নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন ঝুমা আক্তার। তার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর লক্ষ্যেই সেলাই মেশিনটি উপহার দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন জামায়াত নেতারা।

সেলাই মেশিন ফেরত দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পরিবারটির পক্ষ থেকে মেশিনটি ফেরত দেওয়ার কারণ এবং এ ঘটনায় রাজনৈতিক চাপের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।