সারাদেশ
পূজার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঐতিহাসিক হবে: ভূমিমন্ত্রী
দুর্গাপূজা চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর রাজশাহীবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গৌরবের বিষয়। তাঁর আগমনকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী।
মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর রাজশাহীবাসীর জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। বিশেষ করে দুর্গাপূজার মধ্যে তাঁর রাজশাহী আগমন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর মতে, পূজার সময় রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি এ সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, এর আগে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে গিয়ে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বলে তাঁর জানা নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূজার সময় রাজশাহীতে আসছেন, যা একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। রাজশাহী সফরের পর তাঁর রংপুর ও চট্টগ্রামেও যাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।
ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠের সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের সম্পর্ক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ভাষণ দিয়েছেন। তারেক রহমানও এর আগে এখানে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। সে হিসাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম রাজশাহী সফর।
জনসভা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে বরাবরই বড় সমাবেশে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে তাঁরা আশাবাদী। ইতোমধ্যে জনসভা আয়োজনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন রাজশাহীর অসংখ্য মানুষ।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহীর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। সবাই মিলে সফর ও জনসভা সফল করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে পুরো আয়োজন সম্পন্ন করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি দুটি অংশে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে তিনি রাজশাহী ধর্মসভায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া ইক্ষুচাষিদের মধ্যে প্রণোদনা বিতরণের কর্মসূচিও রয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও জনসভাকে কেন্দ্র করে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। এর আগে জনসভাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি রাখা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।