সারাদেশ
নিখোঁজের দুই দিন পর বিলে মিলল প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীর মরদেহ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর শাম্মী আক্তার (১২) নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পুনতাইর এলাকার গারামারা বিল থেকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে বিলে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে মরদেহের সুরতহালে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিহত শাম্মী আক্তার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইড় এলাকার নামা চরপাড়া গ্রামের শহিদুর রহমানের মেয়ে। সে স্থানীয় পুনতাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর নিখোঁজ হয় শাম্মী। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে ওই দিন রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এরপর মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের গারামারা বিলে পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি তারা দ্রুত পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে পরিচয় শনাক্ত হলে সেটি নিখোঁজ স্কুলছাত্রী শাম্মী আক্তারের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শাম্মী শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিলে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হচ্ছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাম্মীর মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।