সারাদেশ
নীলফামারীতে রেললাইনের পাশে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ধারণা
নীলফামারী সদর উপজেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে বিপ্লব রায় (২৬) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে সদর উপজেলার চওড়া ইউনিয়নের গাঠাংটারী এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা-পুলিশ। তবে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত বিপ্লব রায় নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের দাড়িহারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের বিকাশ চন্দ্র রায়ের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিপ্লব দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসা নেওয়ার পর সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পূজা দেখতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন বিপ্লব। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। রাতে তিনি কোথায় ছিলেন কিংবা কীভাবে বাড়ি থেকে দূরের গাঠাংটারী এলাকায় পৌঁছেছিলেন, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় ট্রেনে কাটা পড়ে বিপ্লবের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। বুধবার সকালে রেললাইনের পাশে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
খবর পেয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাঁর মৃত্যুর সঠিক সময় ও ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
নিহত বিপ্লবের বাবা বিকাশ চন্দ্র রায় বলেন, তাঁর ছেলে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছিল। মঙ্গলবার সে পূজা দেখতে বাড়ি থেকে বের হয়। তবে কী কারণে এত দূরে এসে রেললাইনে কাটা পড়ল, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, ট্রেনে কাটা পড়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনায় বিপ্লবের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি কীভাবে রেললাইনে পৌঁছেছিলেন এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।