সারাদেশ
নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৪ মৃত্যু, দুই চালককে আসামি করে পুলিশের মামলা
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা দুই চালককে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় দুই যানবাহনের চালকও নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাতে বড়াইগ্রাম থানায় মামলাটি দায়ের করেন বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আকবর হোসেন। মামলায় বাস ও ট্রাকের অজ্ঞাতনামা দুই চালককে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলসহ দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ১৪ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও ৩০ জন।
নিহতদের মধ্যে ট্রাকচালক আবুল কালাম আজাদ (৩২) ও বাসচালক সোহেল রানাও (৩৬) রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বনপাড়া হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যেই সব মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হওয়ায় তাঁদের স্বজনদের কেউ মামলা করার জন্য থানায় আসেননি। এ কারণে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। নিহতদের স্বজনদের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করতে থানায় না আসায় পুলিশ বাদী হয়ে সড়ক নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে এবং তাঁরা জীবিত থাকলে তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।
অন্যদিকে, বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করবে হাইওয়ে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।