সারাদেশ

আড়াই লাখ টাকার ঘাট চার বছর ধরে অকেজো, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

আড়াই লাখ টাকার ঘাট চার বছর ধরে অকেজো, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নে তিতাস নদীর পাড়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাকা ঘাট চার বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। মূল সড়কের সঙ্গে সংযোগ না থাকায় ঘাটটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে চান্দেরচর ইউনিয়নের কানাই সাহা ঘাটসংলগ্ন তিতাস নদীর তীরে ঘাটটি নির্মাণ করা হয়। রামকৃষ্ণপুর গ্রামের রাম কানাই রায়ের বাড়ির দুর্গাপূজার মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের সুবিধার্থে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে ঘাটটি নির্মাণের সময় মূল সড়ক থেকে প্রায় ১৫ ফুট দূরত্ব রাখা হয়। ফলে সড়ক থেকে ঘাটে যাওয়ার কোনো সংযোগপথ তৈরি হয়নি। এতে ঘাটের সিঁড়ি দিয়ে নদীতে নামতে পারছেন না স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, ঘাটটি নির্মিত হলে প্রতিমা বিসর্জনের পাশাপাশি দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে নদীর পাড়ে যাতায়াত সহজ হবে। কিন্তু সড়কের সঙ্গে সংযোগ না থাকায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দীর্ঘ চার বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় ঘাটটি নির্মাণে ব্যয় করা সরকারি অর্থের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে চান্দেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক বলেন, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঘাটটি নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রতিমা ওঠানো-নামানোর সময় পর্যাপ্ত জায়গা রাখার প্রয়োজন বিবেচনায় মূল সড়ক থেকে কিছুটা দূরে এটি নির্মাণ করা হয়। মাঝের ফাঁকা জায়গাটি স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে মাটি দিয়ে ভরাট করে নেবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁরা আর মাটি ভরাট করেননি।

তবে ঘাটটির নির্মাণ ও সড়কের সঙ্গে সংযোগের বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মণ্ডপ কমিটির এক দায়িত্বশীল ব্যক্তি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, প্রকৌশলীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘাটটি নির্মাণ করা হয়নি। এ ছাড়া ঘাটের সিঁড়িগুলোও অনেক বেশি খাড়া হয়ে গেছে, যা ব্যবহার করতে অসুবিধা হয়। সড়কের সঙ্গে ঘাটের সংযোগ স্থাপনের জন্য মাঝের জায়গাটি মাটি দিয়ে ভরাট করতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ঘাটটি নির্মাণের পরও কেন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার উপযোগী করা যায়নি, সে বিষয়ে জানতে চাইলে হোমনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোতাহার হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি এ উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না জেনে তিনি মন্তব্য করতে পারছেন না।

স্থানীয়দের ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে ঘাটটির সঙ্গে মূল সড়কের সংযোগ স্থাপন এবং সিঁড়ির ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যথাযথ উদ্যোগের মাধ্যমে ঘাটটি সচল করা গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোটিও কাজে আসবে।