সারাদেশ

স্বামী-স্ত্রীর পর মারা গেলেন মেয়ে তানিশা, এক বিস্ফোরণে শেষ পুরো পরিবার


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পিএম

স্বামী-স্ত্রীর পর মারা গেলেন মেয়ে তানিশা, এক বিস্ফোরণে শেষ পুরো পরিবার
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যেরই মৃত্যু হয়েছে। বাবা লালচান মিয়া (৬০) ও মা নাসিমা খাতুনের (৫০) মৃত্যুর এক দিন পর মারা গেছে তাদের কিশোরী মেয়ে তানিশা (১৬)। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর মধ্য দিয়ে একটি বিস্ফোরণে পুরো পরিবারটি হারাল তাদের জীবন।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, বিস্ফোরণে তানিশার শরীরের ৮৬ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত লালচান মিয়ার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে। জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীতে বসবাস করতেন। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন তিনি। তার মেয়ে তানিশা স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে টঙ্গীর চেরাগ আলী মার্কেট এলাকার একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে লালচান মিয়া, তার স্ত্রী নাসিমা খাতুন ও মেয়ে তানিশা দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বাবা লালচান মিয়া ও মা নাসিমা খাতুন মারা যান। পরদিন শুক্রবার সকালে মারা যায় তাদের মেয়ে তানিশাও।

নিহত দম্পতির মেয়ের জামাতা নাঈম মিয়া জানান, টঙ্গীতে তাদের নিচতলার বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজের কারণে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পরিবারের তিন সদস্যই দগ্ধ হন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কেউই বেঁচে ফিরতে পারেননি।

নাঈম মিয়া আরও জানান, শুক্রবার তানিশার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দগ্ধ পরিবারের তিন সদস্যেরই মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

একটি বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর কিশোরী তানিশার চলে যাওয়ায় পরিবারটির আর কেউ বেঁচে রইল না।