সারাদেশ

ঋণের দায়ে চার মৃত্যু, আবার ঋণ করেই ১২০০ জনের জন্য চল্লিশার আয়োজন


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০৯ পিএম

ঋণের দায়ে চার মৃত্যু, আবার ঋণ করেই ১২০০ জনের জন্য চল্লিশার আয়োজন
ছবি: সংগৃহীত

ঋণের বোঝা ও দারিদ্র্যের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী, সন্তানসহ আত্মহত্যা করেছিলেন মিনারুল ইসলাম। সেই মিনারুলের মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর তার বাবার উদ্যোগে বাড়িতেই আয়োজন করা হয় চল্লিশার অনুষ্ঠান। আশ্চর্যের বিষয় হলো এই আয়োজনও করা হয়েছে আবার ঋণ করে। এতে অংশ নেন প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষ।

গত ১৫ আগস্ট পবা উপজেলার বামনশিকড় গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। কৃষিকাজে জড়িত মিনারুল ইসলাম (৩৫) তার স্ত্রী মনিরা খাতুন (৩০), ছেলে মাহিম (১৪) ও মেয়ে মিথিলাকে (৩) হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেন।

পুলিশ লাশ উদ্ধারের সময় একটি চিরকুট পায়, যেখানে মিনারুল লেখেন, “আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে। এত কষ্ট আর মেনে নিতে পারছি না। তাই আমাদের বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম, সেই ভালো হলো। কারও কাছে কিছু চাইতে হবে না।”

এই মর্মান্তিক ঘটনার চল্লিশ দিন পরে, মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী গ্রাম্য প্রথা ও আবেগ থেকে আয়োজন করেন চল্লিশার। তার ভাষায়, “এই অনুষ্ঠানকে কেউ বলে চল্লিশা, কেউ বলে ফয়তা। বাপ-দাদার আমল থেকেই দেখে আসছি। আমি গরিব মানুষ, তাই মাংস করতে পারিনি। ডাল আর মাছ দিয়ে মুড়িঘণ্ট করলাম। যাতে মানুষ খেয়ে দোয়া করে। বাড়ির পরিবেশও হালকা হয়, ছোট ছেলেমেয়েরা ভয় পাচ্ছিল।”

শনিবার দুপুরে আয়োজনটি হয় তাদের বাড়ির সামনে ও পেছনে দুটি প্যান্ডেলে। ভাত, ডাল, ও মুড়িঘণ্ট দিয়ে খাওয়ানো হয় প্রায় ১২০০ মানুষকে।

রুস্তম আলী জানান, আয়োজনটি করতে লেগেছে প্রায় এক লাখ টাকা। কীভাবে টাকা জোগাড় করলেন? তিনি বলেন, “সবই ধার-দেনা। জমা টাকা তো ছিল না। জমি আছে ১৫-১৬ কাঠা, এক কাঠা বেচে ধার শোধ করবো।”

পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মুর্শেদ বলেন, “ইসলামী শরিয়তে এই ধরনের আয়োজনের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে এটা এলাকায় এক ধরনের সামাজিক রেওয়াজ হয়ে গেছে। প্রায় সব পরিবারই এমন আয়োজন করে থাকে।”