সারাদেশ

পাবনায় ভারতীয় নাগরিক হয়েও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক!


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:২৮ পিএম

পাবনায় ভারতীয় নাগরিক হয়েও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক!
ছবি: সংগৃহীত

পাবনায় একজন ভারতীয় নাগরিক হয়েও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে সুখ রঞ্জন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। শুধু নাগরিকত্ব গোপন করাই নয়, তার বিরুদ্ধে শ্বশুরের নামে লিজ নেওয়া সরকারি জমি দখলের অভিযোগও এসেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী নিয়মিত ভারত ভ্রমণ করেন। সেখানে তার স্ত্রী ও বড় ছেলে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ভারতে তার নামে জমিজমা ও ফ্ল্যাটও রয়েছে। তবে ছোট ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে নিয়ে বর্তমানে পাবনায় বসবাস করছেন এবং এর জন্য ভাতাও গ্রহণ করেন তিনি। প্রায়ই তিনি ১৫ দিন থেকে এক মাসের ছুটি নিয়ে পরিবারসহ ভারতে চলে যান।

তদন্তে আরও জানা যায়, ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্র ও আধার কার্ড অনুযায়ী সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দক্ষিণ ব্যারাকপুর শহরের দমদমের সূর্যসেন পল্লি এলাকার নির্মল কুমারের ছেলে। তার ভারতীয় জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ০০০০/০০৮০২/৭৬৩৯৭ এবং আধার কার্ড নম্বর ৪০৫০২২৩৪৩৩৫১। যদিও তিনি বর্তমানে পাবনা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করছেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি তিন দিনের ছুটিতে রয়েছেন।

indian people-2-Dhaka Prokah News-15-09-2025.jpg
ছবি: সংগৃহীত

এছাড়া জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শ্বশুর দীপক কুমার রায়ের নামে লিজ নেওয়া সরকারি সম্পত্তি নিজের নামে নেয়ার চেষ্টা করছেন বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে শ্যালক সুমন কুমার রায় অভিযোগ করে বলেন, “আমার বাবা সরকারি জমি লিজ নিয়ে বসবাস করতেন। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর আমার বোনকে একমাত্র উত্তরসূরি বানিয়ে আবেদন করা হয়। অথচ আমি ওই বাড়িতে বসবাস করলেও এখন আমাকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী দাবি করেন, “এসব মিথ্যা অভিযোগ। কাগজপত্র বানানো যায়। আমার স্ত্রী-সন্তান শ্যালকের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে ভারতে চলে গেছে, আমার সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তদন্ত হলে আমি সব প্রমাণ দেখাতে পারব। মূলত জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণেই এ ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, “আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে এবং কিছু প্রমাণও পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এবং প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”