সারাদেশ
পর্নোগ্রাফি মামলায় এলজিইডি কর্মকর্তা কারাগারে
ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এক কলেজছাত্রীর অর্ধনগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বরগুনা সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে সামিউল আলীম (২২) নামের ওই প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতারকৃত সামিউল আলীম ঢাকার সাভার থানার বজলুর রহমানের ছেলে। তিনি বরগুনা সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে সামিউল আলীমের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এক কলেজছাত্রীর। ধীরে ধীরে নিয়মিত ফোন ও ভিডিও কলে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একপর্যায়ে সামিউল আলীম নানা কৌশলে তরুণীকে ভিডিও কলে অর্ধনগ্ন হতে বাধ্য করে এবং সেই সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে।
পরে ওই তরুণী জানতে পারেন, সামিউলের একাধিক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তার চরিত্র সন্দেহজনক। ফলে সম্পর্কের অবনতি হলে সামিউল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে তরুণীকে হুমকি দেয়—তার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখলে এবং নগদ আট লাখ টাকা না দিলে ধারণ করা অর্ধনগ্ন ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে।
তরুণী দাবি করেন, সামিউল চাপে ফেলে তার অর্ধনগ্ন ভিডিও ধারণ করে এবং পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালায়। টাকা না পেয়ে গত ২৮ অক্টোবর সে ভিডিও বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপে প্রকাশ করে এবং তরুণীর ছোটবোনের মেসেঞ্জারে লিংক পাঠিয়ে দেয়। এতে ভুক্তভোগী তরুণীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়।
এ ঘটনায় তরুণী পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “মামলার পরপরই আমরা অভিযান চালিয়ে আসামিকে বরগুনা থেকে গ্রেফতার করেছি। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, আসামির বিরুদ্ধে সংগৃহীত ডিজিটাল প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী ধাপে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনেও মামলা করা হতে পারে।