সারাদেশ

আওয়ামী লীগ পরিচয় পেলে ভিক্ষা নিতেন না বিএনপির ‘কট্টর সমর্থক’ মকবুল


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

আওয়ামী লীগ পরিচয় পেলে ভিক্ষা নিতেন না বিএনপির ‘কট্টর সমর্থক’ মকবুল
ছবি: সংগৃহীত

মকবুল হোসেন প্রামানিকের বয়স ৭৫ বছর। এলাকার মানুষের কাছে তিনি পরিচিত মকবুল ফকির নামে। পেশায় ভিক্ষুক হলেও তার আরেকটি পরিচয় রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ‘কট্টর সমর্থক’ হিসেবে পরিচিত।

ভিক্ষা করতে গিয়েও নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে অনড় থাকতেন মকবুল। কেউ আওয়ামী লীগের কর্মী বা সমর্থক পরিচয় দিলে তার কাছ থেকে ভিক্ষা পর্যন্ত নিতেন না তিনি। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটছে এই বৃদ্ধের।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার প্রত্যন্ত হান্ডিয়াল ইউনিয়নের নবীন পশ্চিমপাড়া গ্রামে একটি জীর্ণ ঘরের বারান্দায় শুয়ে দিন কাটছে তার। পরিবারের অভিযোগ, বিএনপির সমর্থক হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী দুই মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভাব অনটনের মধ্যে জীবন কাটিয়েছেন মকবুল। বার্ধক্যে এসেও সেই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলেনি তার।

বয়সের ভারে এখন আর চলাফেরা করতে পারেন না মকবুল। তার স্ত্রী মালেকা খাতুনও অসুস্থ। স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর শারীরিক প্রতিবন্ধী বড় মেয়ে মর্জিনা খাতুন এখন বাবা মায়ের সঙ্গে থাকেন। মেয়ের ভিক্ষা করে আনা টাকাতেই কোনোমতে চলে পরিবারের খরচ।

মকবুলের বাড়িতে রয়েছে ভাঙাচোরা টিনের ঘর। পাটকাঠি ও পলিথিন দিয়ে ঘেরা বারান্দার ছাপড়ার নিচে তিন হাতের একটি চৌকিতে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন তিনি। নেই তোশক বা বালিশ। বাড়িতে নেই কোনো শৌচাগারও। কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারেন না তিনি। দীর্ঘদিন একই চৌকিতে শুয়ে থাকায় তার পিঠে ও পায়ে ঘা হয়েছে।

অর্থাভাবে চিকিৎসাও করাতে পারেননি মকবুল। বড় মেয়ে মর্জিনা খাতুন ভিক্ষা করে যে টাকা পান, তা দিয়েই কোনোমতে চলে পরিবারের খাবার ও অন্যান্য খরচ।

বার্ধক্যের কারণে কথা বলতেও কষ্ট হয় মকবুলের। প্রতিবেদককে দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়া অমর হোক। খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ। আমি বিএনপি করি। বিএনপি ছাড়া কখনো কাউকে ভোট দিইনি। আমি বিএনপি করেই মরতে চাই।’

মকবুলের স্ত্রী মালেকা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী ভিক্ষুক হলেও কট্টর বিএনপি সমর্থক ছিলেন। বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দলের নাম সহ্য করতে পারতেন না। বিএনপি করার কারণে আমরা বিগত সরকারের সময়ে কোনো সরকারি সুবিধা পাইনি। আমাদের দুই মেয়ে প্রতিবন্ধী। দুজনের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বড় মেয়েকে তালাক দেওয়ায় এখন আমাদের কাছেই থাকে। সেও প্রতিবন্ধী। বড় মেয়ের ভিক্ষায় এখন আমাদের সংসার চলে।’

হান্ডিয়াল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, মকবুল বিএনপির একনিষ্ঠ ও কট্টর সমর্থক। একবার এলাকার এক আওয়ামী লীগ নেতা তাকে এক মণ চাল দিতে চেয়েছিলেন। বিনিময়ে তাকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও মকবুল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি আওয়ামী লীগের লোক পরিচয় পেলে তার কাছ থেকে ভিক্ষাও নিতেন না তিনি।

হাবিবুর রহমান আরও বলেন, মকবুল ফকির ও তার পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। মানবিক সহায়তা পেলে পরিবারটির দুর্দশা কিছুটা হলেও লাঘব হতে পারে।