সারাদেশ
প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় পুলিশ কনস্টেবল আটক, অতঃপর...
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক হয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল ইমরুল কায়েস (৩৪)। পরবর্তীতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ওই নারীকে তালাক দিয়ে পুলিশ কনস্টেবলের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুমাইটারী বসুনিয়াটারী গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমরুল কায়েস গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের মালিবাড়ি গোবিন্দপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্য হিসেবে কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই প্রবাসীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা গুঞ্জন চলছিল।
এলাকাবাসী জানায়, ইমরুল কায়েসের ওই প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওই গৃহবধূ সবসময় তা অস্বীকার করেন এবং প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণও করেন। এমনকি নিজের শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গেও এ নিয়ে বিরোধে জড়ান।
অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা গোপনে পাহারা বসিয়ে রাখেন। রাত ১০টার দিকে ইমরুল কায়েস প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করলে তারা তাকে হাতেনাতে আটক করেন। প্রত্যক্ষদর্শী সুমন মিয়া (৩২) বলেন, “রাত ১০টার দিকে পুলিশ সদস্য মেয়ের ঘরে ঢোকে। সাড়ে ১০টার মধ্যে খাওয়াদাওয়া শেষ হয়, এরপর খারাপ কাজ শুরু করলে আমরা দরজা খুলে ধরি। ঘরে ঢুকে দেখি, সে ড্রেসিং টেবিলের পাশে লুকিয়ে আছে। এরপর আমরা দুজনকেই আটক করে রাখি।”
সংবাদ পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আতোয়ার রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, “দরজা খুলে দেখি, পুলিশ কনস্টেবল ড্রেসিং টেবিলের পেছনে লুকিয়ে আছে। তার শরীরে তখন কেবল একটি স্যান্ডো গেঞ্জি ছিল।”
পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মধ্যস্থতা করেন। মধ্যস্থতাকারী শামসুজ্জামান প্রামানিক তনু জানান, “ঘটনার পর উভয় পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে প্রবাসীর স্ত্রী স্বামীকে তালাক দেন। এরপর আটক পুলিশ কনস্টেবলের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের পর নবদম্পতি সেখান থেকে চলে যান।”
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাকিম আজাদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তাই আইনগতভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”