সারাদেশ

বিরামপুরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ উদযাপন 


নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

বিরামপুরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ উদযাপন 
ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন দুইটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের মুসল্লিরা। ঈদের জামাতে পুরুষ মুসল্লিদের পাশাপাশি নারী মুসল্লিরাও অংশগ্রহণ করেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসবমুখর আমেজে অনুষ্ঠিত হয় এই জামাত।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৮টায় উপজেলার জোতবানি ইউনিয়নের খয়েরবাড়ি-মির্জাপুর জামে মসজিদে একটি এবং একই সময় বিনাইল ইউনিয়নের আয়ড়া নূরুল হুদা দাখিলি মাদরাসা মাঠে আরেকটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

খয়েরবাড়ি-মির্জাপুর জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মো. দেলোয়ার হোসেন কাজী। অপরদিকে আয়ড়া নূরুল হুদা দাখিলি মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ আল আমিন।

সরেজমিনে আয়ড়া মাদরাসা মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য মাঠে জড়ো হতে থাকেন। কেউ ভ্যানে, কেউ সাইকেলে আবার কেউ মোটরসাইকেলে করে পরিবার-পরিজনসহ নামাজে অংশ নিতে আসেন। অনেক নারী মুসল্লিকেও নামাজে অংশ নিতে দেখা যায়। ফলে পুরো এলাকা ঈদের আনন্দঘন পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে।

জামাত শুরুর আগে মুসল্লিদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে। নির্ধারিত সময় সকাল ৮টায় আয়ড়া মাদরাসা মাঠে হাফেজ আল আমিনের ইমামতিতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

খয়েরবাড়ি জামাতের ইমাম আল আমিন বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র তিন ঘণ্টা। এই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দিনের কোনো পরিবর্তন হয় না। সেই বিবেচনা থেকেই আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করি।

তিনি আরও জানান, ১৯৯৭ সাল থেকে এভাবে ঈদের নামাজ আদায়ের পরিকল্পনা থাকলেও ২০১৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের জামাত আয়োজন করে আসছি।

এদিকে ঈদের জামাতকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিরামপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

বিরামপুর থানার এসআই দুলু মিয়া জানান, বিরামপুর উপজেলার জোতবানি ও বিনাইল এই দুটি ইউনিয়নে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে যাতে নামাজ সম্পন্ন হয় সেজন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। দুইটি জামাতে প্রায় ২৪০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।