সারাদেশ
তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, হতাশ হয়ে ফিরছেন পর্যটকরা
দুর্গাপূজা ও টানা সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে হিমালয়ের বরফশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভিড় জমিয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত পর্যটক। তবে টানা তিন দিন ধরে মেঘ ও কুয়াশার আড়ালে ঢাকা রয়েছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটি। প্রত্যাশা নিয়ে এসেও কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না পেয়ে হতাশা নিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে ভ্রমণপিপাসুদের। শনিবার ছুটির শেষ দিনেও দেখা মেলেনি কাঙ্ক্ষিত এই পর্বতশৃঙ্গের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো, সীমান্তঘেঁষা মাগুরমারী ও বাংলাবান্ধা শূন্যরেখা এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট দেখা যায়। এ কারণে এ সময় বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় হতাশ হতে হয়েছে পর্যটকদের।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা শামীমা আক্তার এবং রাজশাহী থেকে আসা শাহরিয়ার জানান, ছুটির সময় কাজে লাগিয়ে অনেক আশা নিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসেছিলেন তারা। কিন্তু টানা তিন দিনেও পর্বতশৃঙ্গটির দেখা পাননি। এতে মন খারাপ হলেও তারা অন্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেছেন। সমতলের চা বাগান, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা শূন্যরেখা, মহারাজার দিঘি ও রকস জাদুঘর ঘুরে শনিবার নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছেন তারা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, সাম্প্রতিক বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তিন দিন ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে না। চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতেও আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পর্বতশৃঙ্গটি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে নভেম্বরের শুরুতে মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার আকাশে টানা কয়েক দিন কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য দেখা যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ সুবিধা নিয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন জানান, পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।