সারাদেশ

সিলেটে ছেলেধরা সন্দেহে আটক, পরে জানা গেল সে ‘সন্ত্রাসী শ্যুটার রিয়াজ’


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৩৩ পিএম

সিলেটে ছেলেধরা সন্দেহে আটক, পরে জানা গেল সে ‘সন্ত্রাসী শ্যুটার রিয়াজ’
শ্যুটার রিয়াজ। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের গোয়াইনঘাটে ছেলেধরা সন্দেহে জনতার হাতে আটক হওয়া এক যুবকের পরিচয় ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা গেছে, সে কোনো অপহরণকারী নয়, বরং দেশের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘শ্যুটার রিয়াজ’।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগ্রাম এলাকায় দুই শিশুকে একটি গাড়ি থেকে নামিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। উত্তেজিত জনতা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেন। তার ব্যবহৃত গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক নিজেকে পরিচয় দেয় রিয়াজুল ইসলাম ওরফে শ্যুটার রিয়াজ হিসেবে, যিনি নারায়ণগঞ্জের কুখ্যাত রিয়াজ বাহিনীর প্রধান। তার বিরুদ্ধে খুন, অস্ত্র, মাদকসহ প্রায় ২০টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, র‌্যাব বেশ কিছুদিন ধরে শ্যুটার রিয়াজের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছিল। বুধবার দুপুরে তিনি তার দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে একটি গাড়িতে করে জাফলং থেকে আলীরগ্রাম এলাকায় আসেন। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি স্থানীয় একটি বাড়ির বারান্দায় শিশুদের রেখে পালানোর চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় গ্রামবাসী তাকে ছেলেধরা সন্দেহে আটক করে এবং উত্তেজনার একপর্যায়ে মারধরও করে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ তাকে ও দুই শিশুকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তার প্রকৃত পরিচয় উদ্ঘাটিত হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সুমন বলেন, “প্রথমে বিষয়টি পারিবারিক কলহ মনে হয়েছিল। কিন্তু থানায় নেওয়ার পর আসল পরিচয় প্রকাশ পায়। এলাকাবাসী শিশুদের রক্ষা করতে গিয়েই মূলত একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে আটক করতে সক্ষম হয়।”

গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “ধৃত রিয়াজুলের বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। সে পুলিশের নজর এড়িয়ে গাড়িতে করে পালানোর চেষ্টা করছিল। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ চলছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে র‌্যাব-৩ এর হাতে একবার গ্রেপ্তার হয়েছিল রিয়াজ। সেসময় তার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ধারালো অস্ত্র, ইয়াবা ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছিল। জামিনে বেরিয়ে আবারও গা-ঢাকা দিয়েছিল এই সন্ত্রাসী।