খেলা

জার্মানির কাছে ৩৫ গোলের হার, পাঁচ ম্যাচে বাংলাদেশের জালে ১৪৬ গোল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

জার্মানির কাছে ৩৫ গোলের হার, পাঁচ ম্যাচে বাংলাদেশের জালে ১৪৬ গোল
ছবি: সংগৃহীত

চীনে চলমান আইএসএফ অনূর্ধ্ব-১৮ স্কুল বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা। প্রতিযোগিতায় পাঁচটি ম্যাচ খেলেও একবারও প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পারেনি দলটি। বিপরীতে পাঁচ ম্যাচে নিজেদের জালে হজম করেছে মোট ১৪৬ গোল। চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, মরক্কো, আলজেরিয়া ও হাইতির বিপক্ষে একের পর এক বড় ব্যবধানে হারের ফলে আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শেষ হয়েছে গোলহীন পারফরম্যান্স ও হতাশার পরিসংখ্যান নিয়ে।

গত ১৯ অক্টোবর চীনের সুচৌ তাইহু এফসি স্টেডিয়ামের ৭ নম্বর মাঠে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচেই ২৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয় দলটি। শুরুতেই এমন বড় ধাক্কা খেলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের আক্রমণের সামনে রক্ষণ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের।

টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ২০ অক্টোবর জার্মানির মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। শক্তিশালী জার্মান দলের বিপক্ষে শুরু থেকেই চাপে থাকা লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা শেষ পর্যন্ত ৩৫-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়। আগের ম্যাচে ২৭ গোল হজম করার পর জার্মানির বিপক্ষে আরও বড় ব্যবধানে হার বাংলাদেশের দুর্বলতার চিত্র সামনে নিয়ে আসে। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের গোলের খাতাও খুলতে পারেনি দলটি।

এরপর ২১ অক্টোবর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। সুচৌ এক্সপেরিমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সিটি মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতেও প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশের যুবারা। মরক্কোর কাছে ৩৩-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব শেষ করে দলটি। টানা তিন ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পাশাপাশি কোনো গোল করতে না পারায় ‘সি’ গ্রুপের তলানিতে থেকে প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপে ওঠার সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয়।

গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে পরিবর্তন আসেনি। বরং আলজেরিয়ার বিপক্ষে টুর্নামেন্টে নিজেদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের মুখে পড়ে দলটি। ওই ম্যাচে ৪০-০ গোলে হারে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে এটিই ছিল বাংলাদেশের জালে সর্বোচ্চ গোল হজমের ঘটনা। প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করতে না পারার পাশাপাশি আক্রমণভাগ থেকেও কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি।

টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ছিল হাইতির বিপক্ষে। আগের চার ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও গোলের দেখা পায়নি দলটি। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৪০ গোল হজম করার পর হাইতির বিপক্ষে তুলনামূলক কম গোল খেলেও ১১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে পাঁচ ম্যাচের সবকটিতে হেরে প্রতিযোগিতা শেষ করে দলটি।

পাঁচ ম্যাচের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চেক প্রজাতন্ত্রের কাছে ২৭, জার্মানির কাছে ৩৫, মরক্কোর কাছে ৩৩, আলজেরিয়ার কাছে ৪০ এবং হাইতির কাছে ১১ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষের জালে ১৪৬ বার বল প্রবেশ করলেও বাংলাদেশের পক্ষে একটিও গোল করা সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ, পুরো প্রতিযোগিতায় গোল করার ক্ষেত্রে শূন্যের ঘরে থাকলেও গোল হজমের সংখ্যায় বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে দলটি।

বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্স অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ে ফুটবলারদের প্রস্তুতি, রক্ষণভাগের সংগঠন, আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে দল গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা অর্জন উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল খেলতে প্রয়োজন পরিকল্পিত প্রস্তুতি, নিয়মিত উচ্চমানের অনুশীলন, উপযুক্ত কোচিং এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সুযোগ।

পাঁচ ম্যাচে ১৪৬ গোল হজম এবং একবারও গোল করতে না পারার এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ফুটবলের প্রস্তুতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে শুধু টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নয়, বরং খেলোয়াড় বাছাই, ফিটনেস, কৌশলগত প্রশিক্ষণ, রক্ষণ ও আক্রমণের সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়াও জরুরি।