সোমবার, ২৭ মে ২০২৪ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
Dhaka Prokash

জাতীয় অস্তিত্বের জন্য নজরুলকে ধারণ করা জরুরি

কাজী নজরুল ইসলাম। জন্মে জন্মে বর্ষে বর্ষে শত সালাম। কাজী নজরুল ইসলাম তোমাকে শত সালাম। কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালির কবি, জাতিসত্তার কবি। আজ নজরুলকে স্মরণ করতে গিয়ে, নজরলের অগ্নিবীণাকে স্মরণ করতে গিয়ে আমি একজন প্রমিত বাঙালিকে স্মরণ করতে চাই। সেই প্রমিত বাঙালির নাম তিনি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবর রহমান।

কেননা তিনি নজরুলের উক্তির অভিব্যক্তি হয়ে উদ্ভূত হয়েছিলেন, আমাদের মাঝে।
বল বীর- বল উন্নত মম শির,
শির নেহারি’ আমারি নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির।

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।
এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বধীনতার সংগ্রাম।
একজন কবি কীভাবে একজন রাজনীতিকের বোধে অনুপ্রাণিত হয়ে যান, আপনারা দেখতে পেয়েছেন, আপনারা শুনতে পেয়েছেন। এই উক্তিটি প্রায় শত বছর আগের।
আরেক প্রমিত বাঙালির কথা যদি আমি বলি, তার নাম কাজী নজরুল। আমার নাম কাজী নজরুল, আমি যদি বাঙালি হই, আমার চারপাশে যারা আছেন পঞ্চ প্রদীপ, তাদের নামও কাজী নজরুল। আপনিও কাজী নজরুল। আমরা সবাই কাজী নজরুল ইসলাম। প্রতিটি বীর সত্তা কাজী নজরুল ইসলাম। আমি তাই বলি,
বল বীর-বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!

কাজী নজরুল ইসলাম সর্বকালের সর্বাধুনিক কবি এতে কোনো সন্দেহ নেই। সর্বকালের মানুষের অস্তিত্বের চেতনাকে উপলব্ধি করে অভিব্যক্তিকে তিনি জাগ্রত করেন। তার বিদ্রোহী কবিতার মতো এর আগে তিনি আরও লিখেছেন; তোরা সব জয়ধ্বনি কর। আমরা সবসময় বলেছিলাম, আমরা প্রতিনিয়ত বলেছিলাম, আপনারা কাজী নজরুল ইসলামকে পাঠ করুন।

কাজী নজরুল ইসলাম সর্বকালের বিশ্লিষ্ট হবার মতোই একজন মানুষ। আজকে যখন আমরা তাকে স্মরণ করছি, বরণ করছি, আমি বলব, তিনি নবজাতক। প্রতি মুহূর্তে কাজী নজরুল ইসলাম আমার অস্তিত্বের মধ্যে জন্মগ্রহণ করছেন। কাজেই আমি বলব, তিনি চির জীবিত, তিনি কাজী নজরুল ইসলাম। আমরা তাকে ধারণ করব আমাদের অস্তিত্বের জন্য। আমরা তাকে ধারণ করব আমাদের অস্তিত্বের জন্য। আমরা তাকে ধারণ করব আমার পরিবার তথা গোত্রীয় অস্তিত্বের জন্য। আমরা তাকে ধারণ করব আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের জন্য। আমরা তাকে ধারণ করব সারা পৃথিবীর মানবস্বত্ত্বার জন্য।

কাজী নজরুলের অগ্নিবীণা শুধু বাংলা ভাষায় নয়, সারা পৃথিবীতে যে কবিতা লেখা হয়েছে, যে দর্শন চর্চিত হয়েছে, তার ভেতর অগ্নিবীণা প্রকাশিত হবার ফলে সর্ব মানবিক একটি জাতিস্বত্ত্বার সৃষ্টি হয়েছে। সেই বীর স্বত্তার উদ্বোধনই আমি বলব। আমি দাবি করছি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার মতো কোনো কবিতাই পৃথিবীর কোনো ভাষায় রচিত হয়নি। মানুষের চেতনার ভেতর, অস্তিত্বের ভেতর যে বিস্ফোরণ, ব্যক্তিস্বত্তার ভেতর যে বিস্ফোরণ দেখতে পাই জগত ব্যক্তিসত্তা, একটি মানবিক সত্তায় তাকে উন্নীত করেছে। তাই বলি, জয় বাংলা, জয় বিশ্ব, জয় সৃষ্টিশীলতা, জয় কাজী নজরুল ইসলাম। আমি কাজী নজরুল ইসলাম, আপনি কাজী নজরুল ইসলাম। জগতের বীরসত্তার নাম কাজী নজরুল ইসলাম।

বল বীর- বল উন্নত মম শির
শির নেহারি’ আমারি নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির।

মুহাম্মদ নূরুল হুদা: মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমি

Header Ad

‘ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৩৭ লাখ মানুষ, বিধ্বস্ত ৩৫ হাজার ঘরবাড়ি’

ছবি: সংগৃহীত

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে দেশের ১৯টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৩৫ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এক লাখ ১৪ হাজার ৯০০ ঘরবাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১০ জন এবং ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিবুর রহমান।

সোমবার (২৭ মে) সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে খুলনা, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালী জেলাসহ উপকূলীয় ১৯ জেলার ১০৭ উপজেলায় ৯১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকারের প্রস্তুতির কারণে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয় নেই। ঘূর্ণিঝড়ে এ পর্যন্ত ১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার জন্য ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি জেলায় জিআর হিসেবে ৩ কোটি ৮৫ লাখ নগদ টাকা, পাঁচ হাজার পাঁচশ মেট্রিক টন চাল ও পাঁচ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিশুখাদ্য কেনার জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা সহযোগিতা করা হয়েছে। এসব সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্তদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে যাবে।

মহিবুর রহমান আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ৯ হাজার ৪২৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বা স্থায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার (২৮ মে) পর্যন্ত সারাদেশেই বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া থাকবে। এদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ক্রমান্বয়ে সিলেট দিয়ে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যাবে।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব: বিদ্যুৎহীন উপকূলের দেড় ১ কোটি পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর প্রায় দেড় কোটি গ্রাহকের সংযোগ বন্ধ রেখেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। ফলে অনেক এলাকা ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা যাবত বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। ঝড় পুরোপুরি থেমে গেলে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় আছেন পল্লীবিদ্যুতের কর্মীরা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) পরিচালক (কারিগরি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে দুর্ঘটনা এড়াতে সোমবার (২৭ মে) দুপুর ১২টা পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১ কোটি ৫৫ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডব কমে যাওয়ার পর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে দিতে আমাদের কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এলাকায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে এর পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (প্ল্যানিং অ্যান্ড অপারেশন) বিশ্বনাথ শিকদার বলেন, উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রচণ্ড ঝড় বয়ে যাওয়ায় সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরিশাল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধিকাংশ গ্রাহকের সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। আরও কয়েকটি জেলায় আংশিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে হয়তো দেড় কোটি গ্রাহক এখন বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছেন।

পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা বলছেন, উপকূলীয় কয়েকটি জেলার সাগর তীরবর্তী উপজেলাগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ারে তলিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের লাইন চালু থাকলে জানমালের ক্ষতি হতে পারে। আবার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে, যা মেরামত করতে অন্তত ৭ দিন সময় লাগবে। এসব দিক বিবেচনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

কুমিল্লায় ভবন ধসে শ্রেণিকক্ষেই প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর

কুমিল্লায় ভবন ধসে শ্রেণিকক্ষেই এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় বিদ্যালয়ে ক্লাসরত অবস্থায় পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন সাততলা ভবনের দেয়াল (লিংটার) ধসে সাইফুল ইসলাম সাগর (১২) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২৭ মে) বেলা পৌনে ১১টার দিকে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার নোয়াগাঁও চৌমুহনী এলাকায় নুর আইডিয়াল স্কুলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত স্কুলছাত্র সাইফুল ইসলাম সাগর ওই প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। সে শাকতলা এলাকার অলী আহমেদের ছেলে।

নূর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. আশিকুর রহমান বলেন, বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস চলছিল। হঠাৎ স্কুলের পূর্বপাশে নির্মাণাধীন একটি ভবনের ৭তলার দেওয়ালের একটি অংশ স্কুলের টিনের চালায় ভেঙে পড়ে। এতে স্কুলের চেয়ার-টেবিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ সময় ইটের আঘাতে সাইফুল ইসলাম সাগর গুরুতর আহত হয়। দ্রুত তাকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

প্রধান শিক্ষক আশিকুর রহমানের অভিযোগ, কোনো প্রকার সেফটি ছাড়াই ভবন কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল। তাদের অবহেলার কারণেই আজ শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাদেমুল বাহার জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

‘ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৩৭ লাখ মানুষ, বিধ্বস্ত ৩৫ হাজার ঘরবাড়ি’
ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব: বিদ্যুৎহীন উপকূলের দেড় ১ কোটি পরিবার
কুমিল্লায় ভবন ধসে শ্রেণিকক্ষেই প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর
হেরে গেলেন নিপুণ, শিল্পী সমিতির সম্পাদক পদ ফিরে পেলেন ডিপজল
পাপুয়া নিউ গিনিতে ভূমিধস: জীবিত সমাহিত দুই হাজারেরও বেশি মানুষ
বিএনপি সহযোগিতার নামে ফটোশেসন করে: ওবায়দুল কাদের
ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে ১৯ উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত
ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব: নিহত বেড়ে ১০
গোবিন্দগঞ্জে ৮ হাজার ৮৮৪ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
‘রেমালের কেন্দ্রভাগ বিকেলের মধ্যে ঢাকায় ঢুকবে’
ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন আহমাদিনেজাদ
ঢাকায় রেমালের প্রভাব, দমকা বাতাসের সঙ্গে ঝরছে বৃষ্টি
টাঙ্গাইলে ৪ লাখ ৯৩ হাজার শিশুকে খাওয়ানো হবে ‘ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল’
যুক্তরাষ্ট্রে টর্নেডোর তাণ্ডব, ১৫ জনের মৃত্যু
ঘূর্ণিঝড় রেমালে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৬ জনের মৃত্যু
বিভিন্ন খালে জাল ফেলে এখনও মেলেনি এমপি আনারের লাশ
ভয়াবহ ইসরাইলি হামলা, গাজায় নারী-শিশুসহ নিহত ৩৫
৪৫ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন, ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু
উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হচ্ছে ‘রেমাল’
মধ্যরাতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন