অর্থনীতি

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:২০ পিএম

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৯২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ হাজার ৪৩৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।

রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানান, চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসী আয় এসেছে ১৯২ কোটি ১০ লাখ ডলার, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১৩ কোটি মার্কিন ডলার।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, প্রবাসীদের জন্য ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত রাখা, এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনের ফলেই রেমিট্যান্স প্রবাহে এ ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। তারা বলেন, “ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রবাসী আয় আসার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, যা অর্থনীতির জন্য বড় সহায়ক।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরু থেকে (১ জুলাই থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত) দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৯৫০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৮৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ।

প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, করোনাকাল পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশিরা বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন কর্মচুক্তির সুযোগ, যা রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ নিম্নরূপ—

- জুলাই: ২৪৭.৮০ কোটি ডলার

- আগস্ট: ২৪২.২০ কোটি ডলার

- সেপ্টেম্বর: ২৬৮.৫৮ কোটি ডলার

অক্টোবর (২২ দিন পর্যন্ত): ১৯২.১০ কোটি ডলার

অন্যদিকে আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল— জুলাইয়ে ১৯১.৩৭ কোটি ডলার, আগস্টে ২২২.১৩ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৪০.৪১ কোটি, অক্টোবরে ২৩৯.৫০ কোটি, নভেম্বরে ২২০ কোটি, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি, মার্চে ৩২৯ কোটি, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি, মে’তে ২৯৭ কোটি, এবং জুনে ২৮২ কোটি মার্কিন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, চলতি ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৪ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্জন।