অর্থনীতি

ন্যাশনাল ব্যাংককে ১,০০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

ন্যাশনাল ব্যাংককে ১,০০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত

তারল্য ঘাটতির মুখে পড়া বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড-কে ১,০০০ কোটি টাকা জরুরি সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঈদকে সামনে রেখে গ্রাহকদের বাড়তি নগদ চাহিদা মেটাতে ৯০ দিনের জন্য ১১.৫ শতাংশ সুদে এ তহবিল দেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক গ্রাহকদের আমানত সময়মতো পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছিল। তারল্য সংকট মোকাবিলায় ব্যাংকটি সহায়তা চেয়ে চিঠি দিলে ‘ডিমান্ড প্রমিসরি (ডিপি) নোট’-এর বিপরীতে এই অর্থ ছাড় করা হয়।

ন্যাশনাল ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের আগে নগদ উত্তোলনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ক্যাশ ফ্লো স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা চাওয়া হয়। আমানত প্রবাহ ও ঋণ আদায়ের বর্তমান হার দিয়ে ঘাটতি পূরণ সম্ভব হচ্ছিল না।

ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তা প্রয়োজন। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট-এর মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব। কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে সংকোচনশীল মুদ্রানীতির সময় অতিরিক্ত তারল্য সহায়তা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নীতি সুদহার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে সংকোচনশীল অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে দুর্বল হয়ে পড়ে ন্যাশনাল ব্যাংক। একসময় ব্যাংকটির পর্ষদ নিয়ন্ত্রণে ছিল সিকদার গ্রুপ। গ্রুপটির চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার-এর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের বিরোধে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পর্ষদ ভেঙে চেয়ারম্যান করা হয় স্বতন্ত্র পরিচালক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার-কে। সে সময় ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক-এর সঙ্গে একীভূতকরণের আলোচনা শুরু হলেও পরে তা আর এগোয়নি।

২০২৪ সালের মে মাসে নতুন পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ যায় এস আলম গ্রুপ-এর হাতে। তবে সরকার পরিবর্তনের পর পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয় এবং ব্যাংকটির পুরনো উদ্যোক্তা, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরে আসেন।

এরপরও ব্যাংকটি একাধিকবার তারল্য সংকটে পড়ে এবং বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা নিতে হয়েছে।