অর্থনীতি
‘পিটার হাসের কোম্পানি’ থেকে ১ লাখ কোটি টাকার এলএনজি কিনবে সরকার
বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছরে ৮.৫ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা মূল্যের এলএনজি সরবরাহ করবে কোম্পানিটি।
চুক্তির আওতায় ২০২৬ সাল থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে ১৬টি করে এলএনজি কার্গো বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আসবে ২৮টি কার্গো। গড় বছরে খরচ হবে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর, আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বেশ কিছু চুক্তি পর্যালোচনা করলেও, এই চুক্তি আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে বহাল রাখা হয়েছে।
এই চুক্তির পেছনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঢাকায় সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বর্তমানে এক্সিলারেটের স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজর হিসেবে কর্মরত। রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে অবসরের (জুলাই ২০২৪) পর থেকেই বাংলাদেশে কোম্পানিটির কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ সফরে এসে পিটার হাস কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) পরিদর্শন করেন এবং ৩ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ভবিষ্যতে এলএনজি সরবরাহ আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকেও এক্সিলারেট এলএনজি সরবরাহ করছে। এখন পর্যন্ত কোম্পানিটি বাংলাদেশে ১৬টি স্পট কার্গো পাঠিয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৬৩৭ মিলিয়ন ডলার। ভবিষ্যতে বছরে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি স্পট এলএনজি সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল ও এলপিজি আমদানির বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা নিরসনে জ্বালানি আমদানি’ শীর্ষক নীতিপত্রে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।