বুধবার, ২৯ মে ২০২৪ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
Dhaka Prokash

গর্ভাবস্থায় যে খাবার এড়িয়ে চলতে হবে

ছবি : সংগৃহীত

নারীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো গর্ভকালীন অবস্থা। এ সময় অনেক শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন হয় হবু মায়ের।

ভালো খাদ্য মা ও শিশুকে পুষ্ট করে। তবে সম্ভাব্য ক্ষতিকারক খাদ্য গুরুতর ঝুঁকিরও সৃষ্টি করতে পারে। আপনার গর্ভাবস্থার শুরুতেই কী খাবেন আর কী খাবেন না তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

গর্ভাবস্থায় কী খাওয়া উচিত নয়, জেনে নিন-

১) কাঁচা বা আধা সিদ্ধ সি-ফুড ও মাছ

গর্ভবতী অবস্থায় কাঁচা বা আধা সিদ্ধ সি-ফুড ও মাছ খাওয়া যাবে না। ম্যাকেরেল, হাঙ্গর, তলোয়ার মাছ এবং টাইলফিশের মতো কিছু মাছে পারদ উচ্চ মাত্রায় থাকে। গর্ভাবস্থায় পারদ গ্রহণ করলে আপনার সন্তানের বিকাশ বিলম্বিত হতে পারে ও মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। এর পরিবর্তে চাঙ্ক লাইট টুনার মতো মাছ খান। এতে পারদ নিম্ন মাত্রায় থাকে।

মাছে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া থাকে। তাই মাছ ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করে খেতে হবে। অন্তত ১৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মাছ রান্না করার চেষ্টা করুন।

২) কাঁচা বা আধা সিদ্ধ ডিম

অনেকেই অল্প সিদ্ধ বা কম রান্না করা ডিম খেতে ভালোবাসেন। তবে গর্ভাবস্থায় সেগুলোকে একদম এড়িয়ে যেতে হবে। কারণ সেগুলো সালমেনেলা দ্বারা দূষিত হতে পারে। এটি একটি জীবাণু, যা ডায়রিয়া ও বমিভাব সৃষ্টি করে। কাস্টার্ড এবং মুশেসহ কাঁচা ডিম থেকে তৈরি অন্যান্য খাবার এবং ডেজার্টগুলো এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

গর্ভাবস্থার সময় ডিম খাওয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় হলুদ অংশটি শক্ত না হওয়া পর্যন্ত রান্না করা। অন্যথায় ডিমহীন সালাদ, মেয়োনিজ ও অন্যান্য খাবার যেগুলোর ডিমহীন বিকল্প আছে সেগুলো খান।

৩) কাঁচা বা বিরল মাংস

একজন আমিষভোজী মায়ের ডায়েটে মাংস অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি কিছু যত্ন এবং বিধিনিষেধ মেনে করা উচিত। গবেষণায় দেখা যায় যে, কাঁচা মাংসে লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। যা গর্ভাবস্থায় এড়ানো উচিত। এটি সন্তানসম্ভবা নারীর বমিভাব, ভ্রূণের ক্ষতি এবং গর্ভপাত ঘটাতে পারে।

যখনই মাংস খাবেন তা ঠিকভাবে রান্না করার বিষয়টি নিশ্চিত করুন। সব ব্যাকটেরিয়ার অপসারণ হওয়া নিশ্চিত করার জন্য লবণ এবং জল দিয়ে সঠিকভাবে মাংস ধুয়ে নিন।

৪) অপাস্তুরিত দুগ্ধজাত পণ্য

আপনার সন্তানের যথাযথ বিকাশের জন্য আপনার দৈনিক দুধ খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা আপনাকে এবং আপনার শিশুকে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি যেমন খনিজ, ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সরবরাহ করে। তবে আপনাকে পাস্তুরিত দুধ খাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। না অপাস্তুরিত দুধে প্যাথোজেন থাকতে পারে, যা গুরুতর খাদ্য বিষাক্ততার কারণ হতে পারে। পরামর্শ দেওয়া হয় যে অপাস্তুরিত সব ধরনের দুগ্ধজাত দ্রব্যগু এড়াতে হবে। আপনি সর্বদা তাজা ফোটানো দুধ খাওয়া নিশ্চিত করুন।

৫) অ্যালার্জি সৃষ্টি করা কাঁচা অঙ্কুর ও বাদাম

কাঁচা অঙ্কুর প্রোটিন এবং খনিজের একটি অন্যতম উৎস। তবে গর্ভাবস্থায় না খাওয়ার তালিকায় এখনও রয়েছে এ খাদ্য। কারণ এর মধ্যে ক্ষতিকারক ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা খাদ্য বিষাক্ততার কারণ হতে পারে। তাই অঙ্কুর খাওয়ার সময় সেগুলো হালকা করে ভেজে নিন। যদি রান্না করে নিতে পারেন তাহলে আরও ভালো হয়।

গর্ভাবস্থায় আপনি বিভিন্ন ধরনের বাদাম উপভোগ করতে পারেন। যেমন- চিনাবাদাম ও কাঠবাদাম। বাদাম ভিটামিন এবং খনিজের একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা ভ্রুণের বিকাশের জন্য উপকারী। কিন্তু আপনার শরীরে অ্যালার্জি এবং ফুসকুড়ি তৈরি করতে পারে এমন কিছু বাদাম আছে। এমনকি এগুলোতে প্রাথমিকভাবে অ্যালার্জি না থাকলেও বেশি খেলে সময়ের সঙ্গে অ্যালার্জিগুলো বিকাশ করতে পারে। আপনার ডায়েটের মধ্যে কোন বাদাম অন্তর্ভুক্ত করা উচিত এবং গর্ভাবস্থায় সম্পূর্ণরূপে কোন বাদাম এড়িয়ে চলতে হবে তা নিয়ে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

৬) অত্যধিক ক্যাফিন

অনেকেই কফি খেতে খুব পছন্দ করেন। কিন্তু গর্ভাবস্থায় আপনার ডায়েটে ক্যাফিন থাকা ভালো নয়। এটি একটি মূত্রবর্ধক, যার থেকে অত্যধিক প্রস্রাব হতে পারে। এতে আপনি দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হবেন। ক্যাফিন অত্যধিক নিলে ভ্রূণের মৃত্যু, প্রসবকালীন শিশুর মৃত্যু এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

নিশ্চিত করুন যে আপনি দিনে ২০০ মিলি বা ২ কাপের বেশি কফি পান করবেন না।

৭) ভেষজ সম্পূরক ও ভেষজ চা

অনেকেই পরামর্শ দিতে পারেন যে, আপনি গর্ভবতী হওয়ার সময় ভেষজ টনিক এবং চা গ্রহণ করা শুরু করুন। তবে এটি ভালো করার চেয়ে আপনার আরও ক্ষতি করতে পারে। বেশি পরিমাণে নেওয়া হলে কিছু ভেষজ অকাল প্রসবের শ্রম বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ওয়ার্মউড, শ পালমেটো এবং সেন্নার মতো ভেষজ এড়িয়ে যান। কারণ তারা অন্যান্য ওষুধের মতো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষিত না, এবং গর্ভাবস্থায় এগুলো খেতে পরামর্শ দেওয়া উচিত কি না, সে বিষয়ে মতামত এখনও বিভক্ত। আপনার যদি শক্তির অভাব বা ক্লান্তি অনুভব হয়, তবে আপনার ডাক্তারকে মাল্টিভিটামিন প্রেস্ক্রাইব করতে বলুন এবং ভেষজ মিশ্রণগুলো নিয়ে পরীক্ষা করার পরিবর্তে আপনার নিয়মিত চা খাওয়া চালিয়ে যান।

৮) অত্যধিক চিনি সমৃদ্ধ খাদ্য

আপনি আপনার গর্ভাবস্থায় আইসক্রিম এবং চকোলেট অনেকবার খেতে চাইবেন। তবে এগুলোতে থাকা উচ্চ চিনির মাত্রা আপনার রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। যা ভ্রূণকে ক্ষতি করতে পারে। প্রতিদিন কত পরিমাণে চিনি খাচ্ছেন তা পরীক্ষা করুন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিনি এড়াতে যথাসাধ্য চেষ্টা করুন।

৯) অত্যধিক ফ্যাটযুক্ত খাবার

যেহেতু এ সময় আপনার ওজন বাড়ার কথা, তাই অত্যধিক ফ্যাটযুক্ত খাদ্য আপনার রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। যা স্থূলতা ও হৃদরোগে ঝুঁকি বাড়াবে। তাই প্রলোভন প্রতিরোধ করুন। সংযমী মাত্রায় ফ্যাটযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করুন।

ওমেগা-৩, ৬, ও ৯ ফ্যাটি অ্যাসিড ধারণকারী খাদ্য গ্রহণ করুন। কারণ এটি আপনার শিশুর বিকাশের জন্য উপকারী। এ রকম কিছু খাবারের মধ্যে রয়েছে- অ্যাভোকাডো, বাদাম, জলপাই এবং কুমড়োর বীজ। যাই হোক, এই খাবারগুলি অনিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খাবেন না এবং সবসময় সংযমের সঙ্গে খান।

১০) প্রেস্ক্রাইব না করা ভিটামিন

ভিটামিন অবশ্যই গর্ভবতী মহিলাদের জন্য পুষ্টির একটি ভালো উৎস। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে তা ক্ষতিকারক হতে পারে। ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে এবং এটি অকাল শ্রমের কারণ হতে পারে। ভিটামিন নেওয়ার ব্যাপারে আপনার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবেন না। সর্বদা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খান।

১১) যষ্টিমধু

অনেক রান্নাতে যষ্টিমধু ব্যবহার করা হয়, যা সাধারণত একটি ক্ষতিহীন মশলা। কিন্তু গর্ভাবস্থায় যষ্টিমধু জরায়ুর সংকোচনের কারণ হতে থাকে। এর থেকে অকাল প্রসব যন্ত্রণা হতে পারে। গর্ভাবস্থায় এটি যেকোনো ভাবে এড়িয়ে যান।

১২) অ্যালকোহল

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, অ্যালকোহল গ্রহণ করা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। কেবল গর্ভবতী হলে নয়, জীবনের যে কোনো সময় ক্ষতিকর। কিন্তু যদি আপনি মনে করেন যে গর্ভবতী থাকাকালীন মাঝে মাঝে মদ্যপান করা ঠিক আছে, তাহলে আপনি ভীষণ ভুল ভাবছেন।

অ্যালকোহল প্ল্যাসেন্টা দ্বারা ফিল্টার হয় না এবং আপনার শিশুর কাছে আম্বিলিক্যাল কর্ডের মাধ্যমে পৌঁছাতে পারে। এটি শুধু গর্ভপাত এবং প্রসবের সময় শিশুমৃত্যুই ঘটাতে পারে না, সঙ্গে ফেটাম অ্যালকোহল স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এফএএসডি) নামে একটি অবস্থা সৃষ্টি করার মাধ্যমে জীবনভর শারীরিক ও বৌদ্ধিক অক্ষমতাও তৈরি করতে পারে। আপনার গর্ভাবস্থায় অ্যালকোহল ব্যবহারের কোনো নিরাপদ সময় বা নিরাপদ পরিমাণ নেই।

গর্ভাবস্থার জন্য সর্বোত্তম ডায়েট সম্পর্কে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিলে আপনার একটি সুষম খাবার গ্রহণ করতে সহায়তা হবে। নিরাপদ ডায়েটারি পছন্দগুলোতে সীমিত থাকুন।

টিটি/

Header Ad

পেটে গজ রেখেই সেলাই, মারা গেছেন সেই সুমি

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁয় এক প্রসূতির সিজারের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই বার আইসিইউতে নিবির পর্যক্ষেনে থাকার পর মঙ্গলবার (২৮ মে) সকাল ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সেই প্রসূতি নারী সুমি খাতুন (৩৫)। মৃত্যূর খবর জানার পর সুমির পরিবারে ও গ্রামে বইছে শোকের মাতম। এমন মৃত্যূ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা গৃহবধূ সুমির পরিবার।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকের বিচার দাবি করেছেন পরিবার ও প্রতিবেশি স্বজনরা।

এ বিষয়ে গত ২০ মে ‘পেটে গজ রেখেই সেলাই, আইসিইউতে’ শিরোনামে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে টনক নড়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনও প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। এর মাঝেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন সুমি।

সুমির পরিবার ও ক্লিনিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে সকালে প্রসবব্যথা শুরু হলে নওগাঁ শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় অবস্থিত একতা ক্লিনিকে নেয়া হয় ওই প্রসূতি নারীকে। সেখানে ওই দিনই সিজার করান প্রসূতি বিদ্যা ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাক্তার তানিয়া রহমান তনি। সিজারের জন্য জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগ করেন ডাক্তার তানিয়ার স্বামী নওগাঁ সদর হাসপাতালের অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ডাক্তার আদনান ফারুক। সিজারের পরই ওই সুমি তার পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ডাক্তার তানিয়া ক্লিনিকের মার্কেটিং অফিসার আব্দুর রউফকে দিয়ে দ্রুত রোগীর পেটে সেলাই করিয়ে নেয়। তার পর রাত ১০টার দিকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয় সুমিকে। হাসপাতালে নেয়ার পর রাতেই পরিক্ষা করে জানা যায় সুমির পেটে বাড়তি কিছু একটা জিনিস রয়েছে। সেই সাথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় আর সেটার জন্য তাকে পর দিন বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সম্মতিতে ফের অপারেশন করা হয়। এর ১৩দিন পর আজ মঙ্গলবার সকালে মারা যায় সুমি। সুমির এমন মৃত্যুতে শোকের মেছে এসেছে জেলার আত্রাই উপজেলার সন্নাসবাড়ী গ্রামে। সুমির এমন মৃত্যূ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা স্থানীয় প্রতিবেশিরারও।

স্থানীয় প্রতিবেশী ফারজানা খাতুন ও খালেদ বিন ফিরোজ বলেন, পেটে ব্যাথা উঠলো ভর্তি করা হলো সিজারের জন্য। আস্থা ও ভরসা নিয়েই তো ক্লিনিকে ডাক্তার কাছে যায় রোগী। কিন্তু একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেলো। সিজার করার কারনে কিভাবে প্রসূতি মারা যায়। অবশ্যই ভুল অপারেশন বা ভুল চিকিৎসা হয়েছে। নইলে কেন উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ থেকে রাজশাহীতে রেফার করা হলো। আর কত মানুষ অপ-চিকিৎসার কারনে মারা যাবে। মাঝে মাঝে আমরা শুনতে পাই নওগাঁয় ভুল চিকিৎসার কারনে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা। দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হোক এসব ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকদের।

সুমি খাতুনের খালা ফাহিমা বেগম বলেন, আমার ভাগিনীকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনটি বাচ্চার এখন কি হবে। সদ্যজাত সন্তান তো পৃথিবীর আলো দেখার পরই মাকে হারিয়ে ফেললো। ভুল সিজারের কারনেই সুমির মৃত্যু হয়েছে। জড়িত সবার কঠিন শাস্তি চাই আমরা।

সুমির খাতুনের মা রহিমা বেগম বেগম বলেন, অভিযুক্তরা তাদের লোকজনের মাধ্যমে টাকার অফার দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাঁপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। আমরা তাতে রাজি হইনি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ডাক্তাররা যখন প্রথমে সুমিকে দেখেছিল তখনই বলেছিল এই রোগীর অবস্থা খুব খারাপ নওগাঁতে প্রোপার ভাবে সিজারিয়ান করা হয়নি। তার পর যখন সেখানে অপারেশন করলো তখন ডাক্তাররা জানাই সুমির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও পেটে সামান্য গজ ছিল। যার কারনে শারীরিক অবস্থা ভালো ছিলনা। দুই বার আইসিইউতে নেওয়ার পরও আমার মেয়েটাকে বাঁচানো গেলনা। আমার মেয়েটাকে নওগাঁর একতা ক্লিনিকে গরুকে সেলাই করার মত পায়ের হাঁটুর উপর উঠে সেলাই করেছিল। সব কিছুই তাদের ভুল চিকিৎসা ছিল। ওই ডাক্তার তানিয়াকে কাছে পেলে তার হাঁটুর উপর উঠে ওভাবেই সেলাই করে দিতাম। অভিযুক্ত ডাক্তার, ক্লিনিক মালিক ও এর সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করছি। আর যেন আমার সুমির মত কারো ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু না হয়।

অভিযুক্ত ডাক্তার তানিয়া রহমান তনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে চাইনা। প্রয়োজনে ডাক্তারদের সংগঠন বা সিভিল সার্জন এর সাথে কথা বলতে পারেন। আমার যা বলার আমি কিছুদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছি। আর রাজশাহীতে সুমিকে নিয়ে যাওয়ার পর কি হয়েছে সে বিষয়ে আমি অবগত নয়।

এ প্রসঙ্গে কথা হলে সিভিল সার্জন মো. নজরুল ইসলাম ঢাকাপ্রকাশকে বলেন,‘তদন্ত কমিটি দুইটি গঠন করা হয়েছে ‘স্থানীয় তদন্ত কমিটি' ও রাজশাহী বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। স্থানীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) পরিচালকের তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই দুইটা মিলে ভূল কার নিশ্চিত হওয়া যাবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।’

বগুড়ায় সোনালী ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শিবগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় আনসার সদস্য ও নৈশ প্রহরীর হাত-পা বেঁধে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ মে) দিবাগত রাতে শিবগঞ্জ বন্দরে সোনালি ব্যাংকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আনসার ও নৈশ প্রহরীর মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে তারা।

সোনালী ব্যাংক শিবগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক শাহাদত হোসেন সিরাজী জানান, সোমবার রাতে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় ৮/১০ জনের মুখোশধারী সংঘবদ্ধ ডাকাতদল প্রথমে ব্যাংকের নৈশ প্রহরী আব্দুর রহমান এর হাত, পা, মুখ, বেঁধে পার্শ্ববর্তী বি, আর, ডি, সি অফিস চত্বরে বেঁধে রাখে। পরে ডাকাতদল সোনালী ব্যাংকের প্রধান ২ টি দরজার তালা ভেঙ্গে ২য় তলায় প্রবেশ করে। ব্যাংকের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য নয়ন হোসেন ও ফরহাদ হোসেন এর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ব্যাংকের স্টর রুমের হুইল ভেঙ্গে ভোল্ট রুমে প্রবেশ করতে গেলে ব্যর্থ হয়। পরে তাঁরা ২জন আনসার সদস্যর মোবাইল ও তাঁদের কাছে থাকা ২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ-সোনাতলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তানভীর হাসান জানান, একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় ব্যাংকের কোন টাকা ডাকাত দল নিয়ে যেতে পারেনি। এ ঘটনায় আজ শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-কন্যাকে দুদকে তলব

ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-কন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ৬ জুন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তলব করেছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২৮ মে) এ তথ্য জানিয়েছে দুদক। এর আগে, বেনজীর আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। শিগগিরই তাকে তলবের নোটিশ পাঠানো হবে বলেও জানায় সংস্থাটি।

দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক বলেন, এ বিষয়ে বেনজীর আহমেদের বক্তব্য শুনতে হবে। তার সম্পত্তির বৈধতাও থাকতে পারে। যদি তিনি বৈধতার বিষয়টি প্রমাণ করতে পারে, তাহলে সম্পত্তি ফিরে পাবে। এ সময় কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ না করে অ্যাকশন নেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক আরও বলেন, বেনজির আহমেদের সম্পত্তির উৎস কোথায় তা তদন্ত করা হবে। যদি বৈধ উৎস হয়, তাহলে তিনি সম্পত্তি ফিরে পাবে, অন্যথায় রাষ্ট্র বিধি মোতাবেক তা বাজেয়াপ্ত করবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ মে বেনজীর আহমেদের ৮৩টি দলিলের সম্পত্তি ও ২৭টি ব্যাংকের ৩৩টি আকাউন্ট জব্দের (ক্রোক) নির্দেশ দেয় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। পরে ২৬ মে একই আদালত তিনি ও তার স্ত্রী এবং তিন সন্তানের আরও ১১৯টি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দেরও নির্দেশ দেন।

এর আগে, গত ২৫ এপ্রিল বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নগদ অর্থের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে চিঠি দেয় দুদক। এছাড়া, এফডিআর, সঞ্চয়পত্রসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য চেয়ে জয়েন্ট স্টক, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরেও চিঠি দেয় সংস্থাটি।

এদিকে, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে থাকা বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট (বিও) স্থগিত করার নির্দেশও দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে, তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাব এবং র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান যে সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল। তখন তিনি আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ

পেটে গজ রেখেই সেলাই, মারা গেছেন সেই সুমি
বগুড়ায় সোনালী ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা
বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-কন্যাকে দুদকে তলব
কোনো অপরাধী শাস্তি ছাড়া পার পাবে না : সাবেক সেনাপ্রধান ও বেনজির প্রসঙ্গে কাদের
এমপি আনারের ৪ কেজি মাংস উদ্ধার
খালের পাড়ে বসছে সিসি ক্যামেরা, ময়লা ফেললেই আইনি ব্যবস্থা
চুয়াডাঙ্গায় ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম
বিরামপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধে স্কুল পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে পটুয়াখালী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিল স্পেন ও নরওয়ে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪-এর অজানা সব খবর
ঢাকা সফরে আসছেন আইএমও’র মহাসচিব
বেনজিরকে গ্রেফতারে আইনী কোন বাধা নেই: দুদক আইনজীবী
মানি লন্ডারিং: বেসিকের বাচ্চুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
আমি রেকর্ডের পেছনে ছুটি না, রেকর্ডই আমার পেছনে ছোটে: রোনালদো
তরুণরা তামাকের পেছনে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেন
বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকবে না: সৌদি
বিয়ের ১২ দিন পর জানলেন স্ত্রী একজন পুরুষ
ঘূর্ণিঝড়ে উদ্ধার কাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ফায়ারফাইটারের মৃত্যু