সারাবিশ্ব
‘হাসিনা-ইউনূস দ্বন্দ্বে আমি বলির পাঠা’ টিউলিপ সিদ্দিকের অভিযোগ
যুক্তরাজ্যের সাবেক সিটি মিনিস্টার ও লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে তিনি “বলির পাঠা” হয়েছেন।
ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এক সপ্তাহ আগে একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ গঠন হয়েছে।
বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি হিসেবে টিউলিপ তার পরিবারের জন্য ঢাকার পূর্বাচলে জমি বরাদ্দে প্রভাব খাটিয়েছেন। তিনি এই অভিযোগকে “সম্পূর্ণ হাস্যকর” বলে উড়িয়ে দেন। ১১ আগস্ট তার বিচার শুরুর তারিখ নির্ধারণ হলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে বা ভিডিও কনফারেন্সে হাজির হবেন কি না, তা এখনও ঠিক করেননি।
টিউলিপ বলেন, এখনো তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক সমন পাননি এবং নিজেকে “কাফকায়েস্ক দুঃস্বপ্নে” আটকে পড়া মনে করছেন—যেখানে বিদেশে বিচার হচ্ছে, অথচ অভিযোগের সঠিক বিবরণও জানা নেই।
তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের শেষ দিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশের “কদর্য রাজনীতি” তার জীবনে প্রভাব ফেলছে। অচেনা ওয়েবসাইটে তার বিরুদ্ধে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগ ছড়ানো হয়, যা তিনি মিথ্যা বলে অভিহিত করেন।
এছাড়া ২০০৪ সালে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিনামূল্যে ফ্ল্যাট পাওয়ার অভিযোগও তোলেন কর্তৃপক্ষ, তবে টিউলিপ দাবি করেন, ওই ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন না এবং বিষয়টি নিয়ে আগের মন্তব্য ভুলবশত হয়েছিল।
মন্ত্রী থাকার সময় নৈতিক মানদণ্ড বিষয়ে স্বাধীন তদন্তে তিনি অভিযোগমুক্ত হন, তবে তদন্তকারী উল্লেখ করেন যে পারিবারিক সম্পর্কের সুনামের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত ছিল।
স্টারমারের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও বিভ্রান্তি এড়াতে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে অভিযোগ থেকে মুক্তি না পাওয়ায় তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
টিউলিপের ভাষায়, “সত্যি বলতে, আমি এই ইউনূস-হাসিনা দ্বন্দ্বের বলির পাঠা মাত্র। বাংলাদেশে কিছু মানুষ ভুল কাজ করেছে, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত, কিন্তু আমি তাদের মধ্যে কেউ নই।”