সারাবিশ্ব

তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার হতে পারে, বিশ্বকে সতর্ক করল ইরান


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম

তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার হতে পারে, বিশ্বকে সতর্ক করল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক কমান্ড।

বুধবার পারস্য উপসাগরে আরও তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর তেহরান এই সতর্কবার্তা দেয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন মঙ্গলবার তাদের সামরিক অভিযানকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র বলে উল্লেখ করলেও ইরান বুধবার ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেলের দাম কিছুটা কমে এবং শেয়ারবাজারেও আংশিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধের অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নিতে পারেন—এমন প্রত্যাশা থেকেই বাজারে সাময়িক স্বস্তি তৈরি হয়।

তবে বাস্তবে সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ফলে ইরানের উপকূলঘেঁষা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৭০-এর দশকের পর এত বড় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আগে দেখা যায়নি।

ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেন, “তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। জ্বালানির দাম আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করে, আর সেই নিরাপত্তা আপনারাই অস্থিতিশীল করেছেন।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। স্থানীয় জনগণকে এসব ব্যাংক থেকে অন্তত এক হাজার মিটার দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে তেহরানে এমন একটি ব্যাংকের কার্যালয়ে রাতভর হামলার ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর আঘাতে বুধবার তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ ধরনের হামলার মুখে পড়া জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টিতে।

এদিকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বৈশ্বিক কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সুপারিশ করতে পারে বলে জানা গেছে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি তত বাড়বে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।