লাইফস্টাইল
বিছানার চাদর ও বালিশের কভার নিয়মিত পরিস্কার না করলেই বিপদ!
প্রতিদিনের জীবনের বড় একটা সময় আমরা কাটাই বিছানায়। অথচ এই আরামদায়ক জায়গাটিই অজান্তেই হয়ে উঠতে পারে নানা রোগজীবাণুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল। যদি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখা হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত...
অদৃশ্য শত্রু ধূলিকণা মাইট:
মানুষ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ কোটি মৃত ত্বক কোষ ঝরায়। এই কোষগুলো ধূলিকণা মাইটের প্রধান খাবার, যা চাদর ও বালিশে জমে থাকতে পারে। এর ফলে অ্যালার্জি, হাঁপানি এবং একজিমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।

ব্যাকটেরিয়ার আস্তানায় পরিণত হতে পারে চাদর:
অপরিষ্কার চাদরে সহজেই জন্ম নেয় স্ট্যাফিলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া। যদিও সব প্রজাতি ক্ষতিকর নয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি ত্বকের সংক্রমণ, ব্রণ বা নিউমোনিয়ার কারণ হতে পারে। দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের জন্য এটি হয়ে উঠতে পারে গুরুতর ঝুঁকি।
নাইজেরিয়ার একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অপরিষ্কার হাসপাতালের চাদরে ই. কোলাইসহ আরও নানা ধরনের রোগজীবাণু পাওয়া গেছে, যা ডায়রিয়া, মেনিনজাইটিস বা এমনকি সেপসিসের মতো ভয়ংকর রোগের কারণ হতে পারে।

বালিশে ফাঙ্গাসের কলোনি:
২০০৬ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, পুরনো বালিশে বাসা বাঁধে কোটি কোটি ফাঙ্গাস, যার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো Aspergillus fumigatus। ঘুমের সময় ঘাম এবং ধূলিকণার উপস্থিতি ফাঙ্গাস বৃদ্ধিতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে।
যদিও সুস্থ শরীর অনেক সময় এই জীবাণুগুলো সামলে নিতে পারে, কিন্তু হাঁপানি, সাইনোসাইটিস বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এটি ভয়াবহ হতে পারে। এমনকি ফুসফুস পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ভাইরাস ছড়াতেও সহায়ক বিছানা:
২০২২ সালে মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত এক রোগীর ঘর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখা যায়, চাদর বদলানোর সময় ভাইরাস কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাজ্যে এক স্বাস্থ্যকর্মী এমনভাবেই সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।

কত ঘন ঘন পরিষ্কার করা উচিত?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
চাদর ও বালিশের কভার: প্রতি সপ্তাহে একবার ধোয়া উচিত। গরম পানিতে ধুয়ে ইস্ত্রি করলে জীবাণু আরও ভালোভাবে ধ্বংস হয়।
বালিশ: ধোয়া সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে। হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট আছে এমন ব্যক্তিদের প্রতি ৩–৬ মাস অন্তর বালিশ বদলানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদের ক্ষেত্রে প্রতি দুই বছর পর নতুন বালিশ ব্যবহার করা উচিত।
অতিরিক্ত কিছু সতর্কতা:
* শিশু প্রস্রাব করলে সঙ্গে সঙ্গে চাদর ধুয়ে ফেলা জরুরি।
* পোষা প্রাণী নিয়ে ঘুমালে চাদর-বালিশ আরও ঘন ঘন ধুতে হবে।
* বিছানায় খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো—এতে জীবাণুর ঝুঁকি বাড়ে।
স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য শুধু বিছানার আরামদায়ক হওয়াই যথেষ্ট নয়, পরিচ্ছন্নতাও ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পরিষ্কার না রাখলে স্বস্তির বিছানাই একসময় রূপ নিতে পারে অসুস্থতার উৎসে।