দুর্ভিক্ষ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী

২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:২৮ পিএম | আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৯:২৩ পিএম


দুর্ভিক্ষ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী

দেশে দুর্ভিক্ষ হবে না এবং হওয়ার কোনো আশঙ্কাও নাই বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘দেশে দুর্ভিক্ষ হবে না, যদি আল্লাহ নিজের হাতে গজব না দেন। সামনে বোরো আবাদ হচ্ছে। বোরোর আবাদও মানুষ পাগলের মতো করছে। বোরো ফলনও ভালো হবে। যেখানে ১৫-১৬ মণ হত, সেখানে এবার ২০-২৫ মণ হবে।’

অন্যদিকে, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, এত ধান বিক্রি হয়েছে, ১৮০০ টাকা মণ পর্যন্ত বাংলাদেশে ধান বিক্রি হয়েছে। এটা ভালো না, কিন্তু হয়েছে। আমনের ফলন ভালো হওয়ার পরও ১২০০-১৩০০ টাকা করে ধানের মণ বিক্রি হয়েছে। কাজেই আমরা কি দাম দিলাম, না দিলাম...কৃষকের যাতে লাভ হয়, সেটা ধরেই আমরা মূল্য নির্ধারণ করি।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্যঅধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে খাদ্য সংকটের কোনো সুযোগ তিনি দেখছেন। খরার কারণে আমনের ফলন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, সংগ্রহ ভালো হয়েছে, সরবরাহও ভালো আছে। মজুত এখন প্রায় ১৯ লক্ষ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। আমাদের এখনো সংগ্রহ চলছে।

এত ফলনের পরও কেন দাম কমছে না? জবাবে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, আপনি এর থেকে যদি কমের কথা বলেন, তাহলে কৃষকদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা মণ ধান কিনতে হবে। মারা পড়বে কৃষক, তখন ধান চালই পাওয়া যাবে না। আমরা যে ধানের দাম নির্ধারণ করেছি, এর থেকে বেশি ধামে কৃষক বাজারে ধান বিক্রি করছে। ন্যায্যমূল্যের উপরে দাম পাচ্ছে।
একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, আমরা খাদ্য মন্ত্রণালয় ধান কিনি একটা কারণে, যাতে সিন্ডিকেট করে কৃষকদের না ঠকায়। আমাদের কাছে না আসুক, বাজারে বেশি মূল্য পাক, দ্যাটস এনাফ।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা খরচ হিসাব করি, ডিজেল-সার-সেচের কতটুকু খরচ, ধান কাটা থেকে শুরু করে মাড়াই পর্যন্ত এক মণ ধানে কত খরচ হল তার ওপর। আমরা কেজিপ্রতি এক টাকা দুই টাকা বেশি ধরে দাম নির্ধারণ করি।

ভালো ফলনের পরও খাদ্য আমদানির কারণ ব্যাখ্যা করে কৃষি মন্ত্রী বলেন, কৌশলগত বিষয়, নিলামের যে সিন্ডিকেট, এরা করে কী, সবসময় দাম বাড়িয়ে দেয়। তাদের ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের যখন রপ্তানির কিছুটা সুযোগ থাকে, তখন তারা ভয় পায় যে রপ্তানি বেশি হলে তাদের লস হবে। তখন তারা মজুতটা কম করে। এটা আমাদের একটা কৌশল।

এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অতীতে কার্তিক মাসে মঙ্গা হলেও দেশে এখন কোনো খাদ্যসংকট নেই, মঙ্গা নেই।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। চালের দাম যাদের জন্য অসহনীয় পর্যায়ে, তাদের জন্য ওএমএস, খাদ্যবান্ধব ভিজিডি, ভিজিএফ ইত্যাদি আছে। শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, সবাই ভালো আছে। বাঙালির পেট ঠাণ্ডা, মাথাও ঠাণ্ডা আছে। অপচয় বন্ধ করতে হবে, বিয়ে বাড়িতে দেখা যায় যে ১০-১৫ শতাংশ খাবার অপচয় হচ্ছে।

এনএইচবি/এমএমএ/


বিভাগ : জাতীয়