সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪ | ৩ আষাঢ় ১৪৩১
Dhaka Prokash

২৫ মার্চ, আজ সেই ভয়াল রাত

আজ সেই ভয়াল ২৫ মার্চ। গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিন শেষে এক বিভীষিকাময় ভয়াল রাত নেমে এসেছিল বাঙালি জাতির জীবনে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা অনুযায়ী বাঙালী জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালীদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

২৫ মার্চের কালোরাত স্মরণে আজ রাত ১০টা ৩০মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হবে। এ ছাড়া যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

২৫ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে গণহত্যা দিবসের ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও সারাদেশে গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গীতিনাট্য এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকাসহ সকল সিটি কর্পোরেশনগুলোতে গণহত্যার ওপর দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করা হবে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এদিন বাদ জোহর দেশের সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে সুবিধাজনক সময়ে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

বাঙালীর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মুছে দেওয়ার চেষ্টায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তারপর নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়ে বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বাঙালীর উপর পরিচালনা করে সশস্ত্র অভিযান করে অপারেশন সার্চলাইট।

পাকিস্তানের দুই সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ও মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর নির্দেশনায় চালানো হয় ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর গণহত্যা। তবে তাদের নির্দেশনামার কোনো লিখিত নথি রাখা হয়নি। গণহত্যার সেই পুরো নির্দেশ মুখে মুখে ফরমেশন কমান্ডার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার বহু বছর পরে ২০১২ সালে মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ‘এ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি’ নামে আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস প্রকাশিত সে আত্মজীবনীতে প্রথমবারের মতো অপারেশন সার্চলাইট সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়।

অপারেশন সার্চলাইট কিভাবে পরিকল্পিত হয়, ১৯৭১ সালের সেই স্মৃতিচারণ করে রাজা লিখেছেন, ‘১৭ মার্চ, সকাল প্রায় ১০টা বাজে। টিক্কা খান আমাকে ও মেজর জেনারেল ফরমানকে কমান্ড হাউসে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে খবর পাঠান। খবর পেয়ে আমরা দুজন টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করি। গিয়ে দেখি, সেখানে জেনারেল আবদুল হামিদ খানও রয়েছেন। টিক্কা খান আমাদের বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেখ মুজিবের সমঝোতা আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট চান আমরা যেন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহন করি এবং সে অনুযায়ী একটা পরিকল্পনা তৈরি করি। এ ছাড়া আর কোনো মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনা আমরা পাইনি। আমাদের বলা হয়, পরদিন ১৮ মার্চ বিকেলে আমরা দুজন যেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ওই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করি।’ পরদিন সকালেই খাদিম হোসেন রাজা তার কার্যালয়ে রাও ফরমান আলীকে নিয়ে বসেন। তারাই গণহত্যার এ অভিযানের নাম দেন অপারেশন সার্চলাইট।

মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চ রাত সম্পর্কে লিখেছেন, ‘সেই রাতে ৭০০০ মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেফতার করা হয় আরো ৩০০০ লোক। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। সমস্ত পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চললো মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করলো ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট। লুট আর ধ্বংস যেন তাদের নেশায় পরিণত হল। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হল। সমস্ত বাংলাদেশ হয়ে উঠলো শকুন তাড়িত শ্মশান ভূমি।’

পাইকারি এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও রয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্কট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।’

১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কাছে পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের প্রক্রিয়া চলাকালে পাকিস্তানি সেনারা কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নাম দিয়ে নিরীহ বাঙালি বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। এদিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। হেলিকপ্টারযোগে তারা দেশের বিভিন্ন সেনানিবাস পরিদর্শন করে বিকেলের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে আসে।

ঢাকার ইপিআর সদর দফতর পিলখানাতে অবস্থানরত ২২তম বালুচ রেজিমেন্টকে পিলখানার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। মধ্যরাতে পিলখানা, রাজারবাগ, নীলক্ষেত আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনারা। হানাদার বাহিনী ট্যাঙ্ক ও মর্টারের মাধ্যমে নীলক্ষেতসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দখল নেয়। সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে, ট্যাঙ্ক-মর্টারের গোলায় ও আগুনের লেলিহান শিখায় নগরীর রাত হয়ে উঠে বিভীষিকাময়।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজীর জনসংযোগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা সিদ্দিক সালিকের ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ গ্রন্থেও এ সংক্রান্ত একটি বিবরণ পাওয়া যায়। সিদ্দিক সালিক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনারেল নিয়াজীর পাশেই ছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে অনুগত পাকিস্তানি হিসাবে পাক সামরিক জান্তার চক্রান্ত তিনি খুব কাছে থেকেই দেখেছেন। ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট শুরুর মুহূর্ত নিয়ে তিনি লিখেন ‘নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সামরিক কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। এমন আঘাত হানার নির্ধারিত মুহূর্ত (এইচ-আওয়ার) পর্যন্ত স্থির থাকার চিহ্ন বিলুপ্ত হয়ে গেল। নরকের দরজা উন্মুক্ত হয়ে গেল।’

পাকিস্তানি হায়েনাদের কাছ থেকে রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৯ জন শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। ঢাবির জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যার সবচেয়ে বড় ঘটনাটি। এখানে হত্যাযজ্ঞ চলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান অপারেশন সার্চ লাইট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সকল পদক্ষেপ চূড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করে করাচি চলে যান। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে ২৬ মার্চ (২৫ মার্চ মধ্যরাতে) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোন মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র লড়াই শেষে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।

এনএইচবি/এএস

Header Ad

বিদেশের ওপর নির্ভর করে আওয়ামী লীগ সরকার টিকে আছে : মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকার একটি নতজানু সরকার, বিদেশের ওপর নির্ভর করে তারা ক্ষমতায় টিকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর । তিনি বলেন, ‘আমাদের ভূখণ্ড সেন্টমার্টিনে গোলাগুলি হচ্ছে। মিয়ানমারের যুদ্ধজাহাজও সেখানে দেখা যাচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত আসছে। আর তারা বলছে (সরকার)- আমরা দেখছি।’

রোববার দুপুর ২টায় ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ীতে নিজ বাসভবনে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার আমাদের আন্তর্জাতিক যে সমুদ্র পথ সে পথে আমরা যেতে পারছি না। এটা বাংলাদেশের জন্য হুমকি।

দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো- এই অনির্বাচিত সরকার, দখলদারিত্বের সরকার এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্টেটমেন্ট দেয়নি। কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আলোচনা করবে বলছে; কিন্তু কোনো আলোচনা এখন পর্যন্ত আমরা শুনিনি। তাহলে এ সরকারের প্রতি মানুষ কী করে আস্থা রাখবে। এটি (আওয়ামী লীগ) একটি নতজানু সরকার। বিদেশের ওপর নির্ভর করে এই সরকার টিকে আছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যেসব কর্মকর্তা-কর্মকারী মনে করছেন যে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে, লুটপাট করে, বিএনপিকে নির্যাতন করে টিকে থাকতে পারবেন; তারা তা পারবেন না। আল্টিমেটলি এভাবে টিকে থাকা যায় না। তার প্রমাণ বেনজীর ও আজিজ। আওয়ামী লীগ সরকারই তাদেরকে বলির পাঁঠা বানিয়েছে।

‘এখন সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার ফিরিস্তি পত্রিকায় বের হয়েছে। একে একে সবার থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। এ সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তাদেরকে চুরির সুযোগ দিচ্ছে। তারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সরকার ফেল। তাদের উচিত পদত্যাগ করা।’

ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন একটা তামাশা। এটা করতে হয় তাই আওয়ামী লীগ করছে। নির্বাচনের আগেই বিরোধী দলের সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার করে তারা জেলে পাঠিয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

‘ভারতেও নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। তাদের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। তার কারন হলো যারা শাসন ক্ষমতায় থাকে তারা গণএন্ত্র বিশ্বাস করে না।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাহস করে যদি আপনারা না দাঁড়ান তাহলে সংবাদ মাধ্যমে টিকে থাকতে পারবেন না। আওয়ামী লীগ সরকারই ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন চারটি পত্রিকা রেখে বাকি সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল।

‘সাংবাদিকরা তখন ভিক্ষা করতেন, ফল বিক্রি করতেন। এখন অনেকটিভি চ্যানেল হয়েছে। কিন্তু কোনো সাংবাদিক তার মালিকের হুকুম ছাড়া কিছুই করতে পারেন না।’

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমীন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, আবু নুর চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতা।

ঈদের দিন তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

ঈদের দিন তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবার কোনো কোনো স্থানে তাপপ্রবাহের সম্ভাবনাও আছে। এর পাশাপাশি দু–এক বিভাগে মেঘলা আকাশ এবং সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তথ্য মতে, দেশজুড়ে টানা বা ভারী বৃষ্টি হবে নেই। দেশের বড় অংশজুড়ে ওই দিন ভ্যাপসা গরমের ভাবটা থাকতে পারে। এর কারণ হলো, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি। তাই তাপমাত্রা হয়তো খুব বেশি না থাকলেও অস্বস্তি চরমে উঠতে পারে। আজ রোববারও দেশের একটি বড় অংশজুড়ে তাপমাত্রা বাড়তি, আছে অস্বস্তিও।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ আজ বলেন, ঈদের দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতিতে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথমত, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ওই দিন বৃষ্টি হতে পারে। এই তিন বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা আছে। এসব এলাকার তাপমাত্রা সহনীয় থাকতে পারে। ঈদের দিন চট্টগ্রাম বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।

বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী বিভাগে ঈদের দিন তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত বেশি থাকতে পারে বলে জানান বজলুর রশীদ। তিনি বলছিলেন, এই তিন বিভাগের কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। খুলনা ও বরিশালে তাপমাত্রা একটু বেশি থাকতে পারে। কোথাও কোথাও তা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। এ বিভাগের কিছু জায়গায় আকাশ মেঘলা থাকতে পারে।

খুলনা বিভাগে টানা কয়েক দিন মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল খুলনায়, ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বিভাগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১০টি স্টেশনের মধ্যে কুমারখালী ও নড়াইল বাদ দিয়ে বাকিগুলোতে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে ধরা হয়।

ঈদের দিন তাহলে ঢাকার আবহাওয়া কেমন থাকবে—এ প্রশ্নে বজলুর রশীদ বলেন, ঢাকার আকাশ ওই দিন মেঘলা থাকতে পারে। আর বিকেলের দিকে কিছুটা বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ঢাকায় ঈদের দিন বৃষ্টি হলেও তা গরম কমাবে না বলেই মনে হয়।

যদিও এখন তাপমাত্রা এপ্রিলের সেই তীব্র বা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ নেই। কিন্তু এর মধ্যেও গরমের অনুভূতি হচ্ছে প্রচণ্ড। ঘাম ঝরছে খুব। এর কারণ হিসেবে বজলুর রশীদ বলেন, ‘এখন বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ খুব বেশি। গতকাল ঢাকায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ ভাগ। ঈদের দিনেও আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। তাই গরমের অনুভব হবে বেশি।

আজ সকাল ছয়টায় ঢাকার বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৯ ভাগ।

আকাশ মেঘলা থাকলে একটা বড় বিপত্তি দেখা দেয়। সেটা হলো, ভূপৃষ্ঠে তৈরি হওয়া তাপ আটকে থাকে। এতে গরমের অনুভূতি বেশি হয়। ঈদের দিন অন্তত ঢাকার আকাশ মেঘলা থাকলে গরমে অস্বস্তি বেশি হতে পারে বলে জানান বজলুর রশীদ।

দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহার ত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল (১৭ জুন) দেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব ঈদুল আজহা।

রোবাবার (১৬ জুন) তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানাতে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম, এক বছর পর আবারও আমাদের জীবনে ফিরে এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি আপনাদেরকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানাই।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আসুন ঈদুল আজহার শিক্ষা গ্রহণ করে ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বীবিত হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করি।

বার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা আপনার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ, সুখ, শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। ঈদ মোবারক।

সর্বশেষ সংবাদ

বিদেশের ওপর নির্ভর করে আওয়ামী লীগ সরকার টিকে আছে : মির্জা ফখরুল
ঈদের দিন তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে গাইবান্ধায় ঈদুল আজহা উদযাপন
ঘোড়াঘাটে ভূমি দখলকারীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করায় সাংবাদিককে হত্যার হুমকি
ঈদের দিন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও জাদুঘর সকল দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকবে
ছাত্রদলের ২৬০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা
দায়িত্বের এ জীবন কঠিন হলেও সুন্দর : বাবা দিবসে পরীমণি
কুড়িগ্রামে আলোচিত গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় সোলায়মানকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব
জাতীয় ঈদগাহে ৫ স্তরের নিরাপত্তা: ডিএমপি কমিশনার
জেনে নিন ঢাকায় কখন কোথায় ঈদের জামাত
ঈদের দিনেও রেহাই নেই গাজার বাসিন্দাদের
চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা
বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায়ে ফের রেকর্ড, ২৪ ঘণ্টায় অর্ধলাখ যানবাহন পারাপার
শেষ মুহূর্তে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ
অজিদের কল্যাণে সুপার এইট নিশ্চিত করলো ইংল্যান্ড
সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রেখেছে আওয়ামী লীগ : খাদ্যমন্ত্রী
সারাদিনের ভোগান্তির পর উত্তরের ঈদযাত্রায় ফিরেছে স্বস্তি
আর্থিক সংকটে কাঙ্খিত বেচা-কেনা হয়নি চুয়াডাঙ্গার পশুহাট গুলোতে
আনারকন্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিএমপি কমিশনার