জাতীয়

বাতিল হচ্ছে  ‘গণভোট অধ্যাদেশ’, সংসদে অধ্যাদেশ উত্থাপনের ‘না’ সিদ্ধান্ত


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৯ এএম

বাতিল হচ্ছে  ‘গণভোট অধ্যাদেশ’, সংসদে অধ্যাদেশ উত্থাপনের ‘না’ সিদ্ধান্ত
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিল সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ কমিটি। তবে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ বিল আকারে সংসদে না আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশের চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয় এবং সিদ্ধান্ত হয়-অধিকাংশ অধ্যাদেশই সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

গণভোট অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এই অধ্যাদেশের ব্যবহার ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এটির অধীনে আর কোনো গণভোট হবে না। তাই এটিকে আইন হিসেবে রূপান্তরের প্রয়োজন নেই।”

তবে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জামায়াতের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “গণভোটের সঙ্গে গোটা জাতি সম্পৃক্ত। এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। জনগণের রায় কার্যকর করতে হবে।”

মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সংশোধন করে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে সরকারি দল। তবে এসব বিষয়ে বিরোধী দলের আপত্তি রয়েছে।

কমিটিতে থাকা বিরোধী সদস্যরা প্রায় ১৫টি অধ্যাদেশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আনুষ্ঠানিক আপত্তি দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ—কিছু প্রতিষ্ঠানকে আগের মতো দলীয় প্রভাবের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতাও খর্ব হতে পারে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। এতে অংশ নেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা।

কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব বিষয়ে একমত হওয়া যায়নি, সেগুলো সংসদে উত্থাপন করে চূড়ান্ত আলোচনা ও প্রয়োজনে ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সামগ্রিকভাবে, অধিকাংশ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে রূপ দেওয়ার পথে অগ্রসর হলেও ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ বাদ পড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী দলের আপত্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশে মতভেদ ভবিষ্যতে সংসদে আলোচনাকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।