জাতীয়
দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা বিনিময়ে ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আগামী ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার ১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় নগরের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছে কিছুক্ষণ বিরতি নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে সেখান থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। রাত ৮টা ৩০ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে তার।
চট্টগ্রাম সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী রংপুর ও রাজশাহী সফর করবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর দুপুরে রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। পরে বিকেলে রাজশাহীতে একটি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর চূড়ান্ত হয়েছে। সফর সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা বিনিময় করতে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসছেন। নিঃসন্দেহে এটি চট্টগ্রামের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি রেইনবো নেশন গড়ে তুলতে চান। তারই অংশ হিসেবে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে চট্টগ্রামসহ দেশের সব সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ খুবই খুশি।
নগরের রহমতগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত যাত্রীমোহন সেনগুপ্ত হল, যা জে এম সেন হল নামে পরিচিত, চট্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রতিবছর এখানে কেন্দ্রীয়ভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আয়োজনও থাকে। ফলে পূজামণ্ডপটি বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মিলনস্থলে পরিণত হয়।
১৯২০ সালে দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত তার পিতা যাত্রীমোহন সেনগুপ্তের স্মরণে জে এম সেন হল প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঐতিহাসিক এই স্থানের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।