স্বৈরশাসক উৎখাতে প্রয়োজন নির্দলীয় সরকার: নোমান

২৪ মে ২০২৩, ০৪:৩৩ পিএম | আপডেট: ৩০ মে ২০২৩, ০২:০০ পিএম


স্বৈরশাসক উৎখাতে প্রয়োজন নির্দলীয় সরকার: নোমান

আওয়ামী স্বৈরশাসক উৎখাতে নির্দলীয় সরকার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে চায়, অথচ তারা তৃণমূল ও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ১৮ সালের নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি, এবারেও পারবে না। এই স্বৈরশাসক উৎখাতে প্রয়োজন নির্দলীয় সরকার। আমরা চাই দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এই নির্বাচন কমিশন বা সরকার নয়, নতুন একটি ব্যবস্থা তৈরি করে নির্বাচন করতে হবে।’

বুধবার (২৪ মে) প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন কালীন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা কেন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে কেন রাখা হয়েছে? কারণ, তার নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, সেটার কার্যকারিতা কমাতেই নেত্রীকে কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে। আমরা এখনো কোনো হরতাল, সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করিনি। ১০ দফা বাস্তবায়নে মিছিল করে যাচ্ছি, যা শিগগির মাত্র ১টি দফায় পরিণত হবে।’

নোমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলছে-সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় নিয়ে তারা আলোচনা করতে রাজি না।কিন্তু সেই সংবিধান কী অক্ষত রয়েছে?পরিবর্তিত সংবিধানের নির্বাচন বা আলোচনা কোনোটাই হবে না। যেখানে দিনের ভোট রাতে হয়, ব্যালটবিহীন নির্বাচন হয়-তাতে বিএনপি অংশ নেবে না।’

যতক্ষণ পর্যন্ত 'আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’ পরিস্থিতি তৈরি না হচ্ছে, ততক্ষণ অব্দি আমরা নির্বাচন করতে দেব না, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে চায়, অথচ তারা তৃণমূল ও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ১৮ সালের নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারে নাই, এবারেও পারবে না। এই স্বৈরশাসক উৎখাতে প্রয়োজন নির্দলীয় সরকার। আমরা চাই দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এই নির্বাচন কমিশন বা সরকার নয়, নতুন একটি ব্যবস্থা তৈরি করে নির্বাচন করতে হবে।’

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান দুদু বলেন, রাজনৈতিক সংকটমোচনে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের বিকল্প নাই।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে দুদু ব‌লেন, ‘আপনাকে পদত্যাগ করতেই হবে। নরমালি করবেন নাকি বাধ্য হয়ে করবেন সেটা আপনার বিবেচনায়। কিন্তু এবার আপনাকে পদত্যাগ করতেই হবে। আপনার সব জারি জরি ফাঁস হয়ে গেছে। আপনি অবৈধ কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে ক্ষমতায় এসেছেন। আপনি ১৪ বছরে যা করেছেন সব অবৈধ। ১৪ ও ১৮ সালের নির্বাচন অবৈধ। তাই আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এখন আপনি যদি না পারেন তাহলে আমরা করব। এরশাদ পারে নাই আমরা করেছি।’

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আপনারা (আওয়ামী লীগ) ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেন নাই? এখন ভুলেগেলে কী হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সময় খুব কম আছে। খালেদা জিয়াকে ছাড়তে হবে। তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ করে দিতে হবে। যদি সুযোগ করতে না পারেন ওটাও আমরা করব তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনব।

ইয়ূথ ফোরামের উপ‌দেষ্ঠা এম. নাজমুল হাসান এর সভাপ‌তি‌ত্বে ও সংগঠ‌নের সভাপ‌তি মুহাম্মদ সাইদুর রহমা‌নের সঞ্চালনায় আ‌লোচনা সভায় আরও বক্তব্য রা‌খেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবীব লিংকন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলু, অ্যাডভোকেট শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, কৃষকদলের যুগ্ম সম্পাদক শাহ আব্দুল্লাহ আল বাকি, সাবেক ছাত্রনেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট, বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের সহ সভাপতি মাহমুদুল হাসান শামিম, সাবেক ছাত্র নেত্রী রুনা গাজী প্রমুখ।

এমএইচ/এমএমএ/