রাজনীতি

ফজলুর রহমানের হলফনামা: উত্তরায় স্ত্রীর নামে দুই ফ্ল্যাটের মূল্য ২০ লাখ টাকা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৩ এএম

ফজলুর রহমানের হলফনামা: উত্তরায় স্ত্রীর নামে দুই ফ্ল্যাটের মূল্য ২০ লাখ টাকা
মো. ফজলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ–৪ (ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানীর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরে তার স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ২০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তিনি ও তার পরিবার কোটি টাকার বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক।

হলফনামা অনুযায়ী, ফজলুর রহমানের আয়ের প্রধান উৎস আইন পেশা ও বাড়িভাড়া। বাড়ি ও ফ্ল্যাট ভাড়া থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা। আইন পেশা থেকে তিনি বছরে আয় করেন ২ লাখ ১২ হাজার ৯০০ টাকা এবং ব্যাংক আমানত থেকে পান ১৩ হাজার ৩৬৬ টাকা। তার সন্তানদের কোনো আয়ের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম বেগমের সম্পদের মূল্য তুলনামূলক বেশি। উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরে তার স্ত্রীর নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাটের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ২০ লাখ টাকা। এছাড়া ফজলুর রহমানের নামে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন দোতলা ভবন রয়েছে। পৈতৃক সূত্রে তিনি ৫ একর এজমালি কৃষিজমির মালিক। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১২ ও ৫৫ শতকের দুটি অকৃষিজমি।

হলফনামা অনুযায়ী, ফজলুর রহমানের হাতে নগদ রয়েছে ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৫২ টাকা এবং তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৭ হাজার ১২৮ টাকা। ব্যাংকে ফজলুর রহমানের জমা আছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫৫১ টাকা, আর তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১০ লাখ ৪০ হাজার ৪০১ টাকা।
এছাড়া ফজলুর রহমানের নামে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরযানসহ ২ লাখ ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রার্থীর স্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা।

মো. ফজলুর রহমানের নামে ১০ লাখ টাকার একটি দায় রয়েছে, যা তিনি ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসাব’ থেকে অগ্রিম হিসেবে নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা (মানহানি সংক্রান্ত, ধারা ১২৪ ক) থাকলেও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে সেটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এছাড়া ১৯৭০ সালের একটি পুরোনো মামলায় তিনি আগেই খালাস পেয়েছেন।

৭৭ বছর বয়সী অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ ও এলএলবি। তিনি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার করনসী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে অনিক রহমান একজন এআই বিশেষজ্ঞ এবং ছোট ছেলে অভিক রহমান সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার।