ধর্ম

দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী আজ, রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা


ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ এএম

দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী আজ, রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা
ছবি: সংগৃহীত

দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী শেষে আজ মহাঅষ্টমী। এ উপলক্ষে সোমবার (১৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে দুপুরে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।

মহাঅষ্টমী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা। মহাঅষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজা। অসুর বধের সন্ধিক্ষণ স্মরণে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়, যা দুর্গাপূজার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। শ্রীরামকৃষ্ণের বক্তব্য অনুযায়ী, শুদ্ধাত্মা কুমারীর মধ্যে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায়। মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার মূল উদ্দেশ্য।

শাস্ত্রমতে, এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুই বছর বয়সীকে সরস্বতী, তিন বছর বয়সীকে ত্রিধামূর্তি, চার বছর বয়সীকে কালিকা, পাঁচ বছর বয়সীকে সুভাগা, ছয় বছর বয়সীকে উমা, সাত বছর বয়সীকে মালনী, আট বছর বয়সীকে কুব্জিকা, নয় বছর বয়সীকে কালসন্দর্ভা, দশ বছর বয়সীকে অপরাজিতা, ১১ বছর বয়সীকে রুদ্রাণী, ১২ বছর বয়সীকে ভৈরবী, ১৩ বছর বয়সীকে মহালক্ষ্মী, ১৪ বছর বয়সীকে পীঠনায়িকা, ১৫ বছর বয়সীকে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ১৬ বছর বয়সীকে অন্নদা নামে অভিহিত করা হয়।

নির্বাচিত কুমারীকে মহাষ্টমীর দিন ভোরে স্নান করিয়ে নতুন পোশাক পরানো হয়। এরপর তাকে সাজিয়ে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দেওয়া হয়। সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে অর্থাৎ ১৬টি উপকরণে দেবী জ্ঞানে তার পূজা করা হয়। এ সময় শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি ও দেবী স্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ।

কুমারী পূজার তাৎপর্য তুলে ধরে পুরোহিতরা বলেন, আধুনিক পৃথিবীতে সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংকট দূর করে সামনে এগিয়ে যেতে হলে নারীর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি। অনেক জায়গায় নারীকে স্ত্রী বা সহযোগী হিসেবে সম্মান দেওয়া হলেও নারীর সবচেয়ে মহিমাময় রূপ হলো মাতৃরূপ। তাই মহাষ্টমীর তিথিতে জগতের সব মাতৃজাতির উদ্দেশে কুমারী মাতাকে প্রণাম জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে আদ্যাশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভক্তরা।

অশুভ শক্তির বিনাশের মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। মহালয়ার দিন থেকেই দেবীর আগমনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ, শোক ও যন্ত্রণা থেকে ভক্তদের রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্রকারদের ব্যাখ্যায়, দুঃখের মধ্য দিয়ে যাকে লাভ করা যায়, তিনিই দুর্গা। দেবী মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন এবং ভক্তের প্রার্থনায় তার কষ্ট দূর করেন বলে বিশ্বাস করা হয়।

এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে ঘোড়ায় চড়ে। আগামী বুধবার দশমীর দিন নৌকায় তার বিদায় নেওয়ার কথা রয়েছে।

মহালয়ায় দেবীর আগমনের সূচনা হয়, আর বিজয়া দশমী হলো তাকে বিদায় জানানোর দিন। মহা আরতির মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উদযাপিত হবে।

বিজয়া দশমীর দিন মঙ্গলবার বিকেল ৩টার পর থেকে প্রতিমা বিসর্জনের কথা জানানো হয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে পলাশীর মোড় থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। পরে সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।