সারাদেশ
দলমত নির্বিশেষে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ, গ্রামবাসীর দুর্ভোগের অবসান
নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের মুরাদপুর গ্রাম থেকে পশ্চিম দিকে আধা কিলোমিটার দূরে একটি পাকা সড়ক থাকলেও এতদিন সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। ফলে বছরের পর বছর মুরাদপুরসহ আশপাশের তিন গ্রামের হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। জমির সরু আইল দিয়েই যাতায়াত করতে বাধ্য ছিলেন তাঁরা।
দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে অবশেষে স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে এসেছেন গ্রামবাসী। গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি ) দিনভর পাঁচ শতাধিক মানুষ ডালি-কোদাল হাতে মাটি কেটে প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ ও আট ফুট প্রশস্ত একটি কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করেন। এ উদ্যোগে মুরাদপুরের পাশাপাশি পাঁচবাড়িয়া ও মোক্তারপাড়া গ্রামের মানুষও অংশ নেন।
গ্রামবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দলমত-নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই কাজে যুক্ত হন। পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। মাটিকাটা শেষে বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সারওয়ার কামাল চঞ্চল স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত রাস্তাটি ভবিষ্যতে পাকাকরণ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করা মানুষের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয় সম্মিলিত উদ্যোগে। ইউপি চেয়ারম্যান একটি গরু উপহার দেন। গ্রামের কেউ চাল, কেউ ডাল, কেউ পুকুরের মাছ দেন। যাঁদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাঁরা রান্নার কাজে সহযোগিতা করেন।
এলাকাবাসী জানান, এই রাস্তা নির্মাণের ফলে মুরাদপুর ছাড়াও পাঁচবাড়িয়া ও মোক্তারপাড়া গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। নওগাঁ শহরে যেতে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ কমে যাবে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্কুল-কলেজে যাতায়াত ও চিকিৎসাসেবায় ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বর্ষাকালে কাদাজলের কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া এবং অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। এখন সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। রাস্তা পাকা হলে উপকার আরও বাড়বে।”
ইউপি চেয়ারম্যান সারওয়ার কামাল চঞ্চল বলেন, “সরকারি নকশা না থাকায় এতদিন এই রাস্তা নির্মাণে সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি। এখন রাস্তা হওয়ায় ভবিষ্যতে এটি সংস্কার ও পাকাকরণের জন্য সরকারি সহযোগিতা পাওয়া যাবে। আমার মেয়াদে রাস্তাটি পাকা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”