দেশি খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ৮০ লাখ টাকা

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৫৭ পিএম | আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১০:১৩ এএম


দেশি খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ৮০ লাখ টাকা
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আগামী মৌসুমে দেশি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা। বিদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক রাখা হয়েছে ৮০ হাজার ডলার। খেলা হবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট এই তিন ভেন্যুতে।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিপিএলের গর্ভনিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ সোহেল ও সদস্য সচিব ডা. ইসমাইল হায়দার মল্লিক।

আগের দিন রবিবার ঘোষণা করা হয়েছিল সাত ফ্রাঞ্চাইজির নাম। আজ খেলোয়াড়দের বিভিন্ন ক্যাটাগরি ও পারিশ্রমিকের বিষয়টি জানানো হয়। খেলোয়াড়দের মোট ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে ৭টি। ক্যাটাগরিগুলো হলো ‘এ’ থেকে ‘জি’ পর্যন্ত। দেশি খেলোয়াড়দের সর্বনিম্ন পারিশ্রমিক ‘জি’ ক্যাটাগরিতে ৫ লাখ টাকা। ক্যাটাগরি ভিত্তিক বাকি পারিশ্রমিক হলো ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৫০ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৩০ লাখ, ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ২০ লাখ, ‘ই’ ক্যাটাগরিতে ১৫ লাখ, ‘এফ’ ক্যাটাগরিতে ১০ লাখ টাকা।

এবার কোনো আইকন ক্রিকেটার রাখা হয়নি। তবে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো চাইলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে দেশি খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে একজনের সঙ্গে আগেই চুক্তি করে নিতে পারবে। তবে বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে কোনোরকম সীমাবদ্ধতা নেই। একটি ফ্রাঞ্চাইজি যত খুশি সম্ভব বিদেশি ক্রিকেটার চুক্তি করতে পারবে, যখন-তখন খেলাতে পারবে। তবে একাদশে সর্বোচ্চ ৪ জন খেলাতে পারবে।

বিদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এরকম উন্মুক্ত মঞ্চ রাখার কারণ তুমুল প্রতিযোগিতা। অতীতে বিপিএল যখন হতো তখন অন্য ফ্রাঞ্চাইজি আসর খুব একটা হতো না। এবার একই সময় আরও তিন তিনটি আসর শুরু হবে। বিগব্যাশ ছাড়াও নতুন দুইটি আসর ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে। এর একটি হলো আরব আমিরাত ইন্টরান্যাশনাল টি-টোয়েন্টি লিগ। এই আয়োজন খুবই সাড়া ফেলেছে। বিশ্বের অনেক নামী-দামী তারকা ক্রিকেটাররা এই আসরের জন্য নাম লিখিয়েছেন। অন্য আসর হলো দক্ষিণ আফ্রিকা (এসএ) টি-টোয়েন্টি লিগ। তাই বিপিএলের আগামী আসরে অতীতে যে বিদেশি খেলোয়াড়কে নিয়মিত দেখা গেছে, তাদের অনেকেই এই দুই আসরে নাম লিখিয়েছেন। তাই ভালো মানের বিদেশি ক্রিকেটার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বিপিএলের এবারের আসরে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই বিদেশি খেলোয়াড়দের কোটা ও রেজিস্ট্রেশন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদস্য সচিব ডা. ইসমাইল হায়দার মল্লিক।

তিনি বলেন, ‘বিদেশি ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে আমরা কোনো লিমিটেশন রাখতে চাচ্ছি না। আইপিএল ছাড়া অনেক টুর্নামেন্ট এখন ওভারল্যাপ করছে। কাজেই বিদেশি ক্রিকেটার পাওয়ায় এখন কঠিন।’

আগামী বিপিএল শুরু হবে নতুন বছরের ৫ জানুয়ারি। শেষ হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি। অন্য ফ্রাঞ্চাইজি আসরের সঙ্গে লড়াই করে পেরে উঠা কঠিন। তা জানার পরও অন্য সময় করা সম্ভব হচ্ছে না বাংলাদেশ জাতীয় দলের কথা বিবেচনা করে।

সদস্য সচিব বলেন, ‘বিদেশিদের ব্যাপারে আপনারা জানেন যে সাউথ আফ্রিকান লিগ, ইউএই লিগ এসবে ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিরা দল নিয়েছে। বেশিরভাগ বিদেশি খেলোয়াড় ওইদিকে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গেছে। আমরাও বিপিএলটা আগপিছ করতে পারছি না জাতীয় দলের ব্যস্ততার জন্য।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছেন, এই সময়টায় টুর্নামেন্ট করছি কেন? কিন্তু আসলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কমিটমেন্টগুলো যেমনভাবে আছে, এটা পেছানো সম্ভব নয়। পরের বছর ও তার পরের বছরও এই পরিস্থিতির মুখোমুখি আমাদের হতে হবে। এরপর থেকে আর সমস্যা হবে না। আমরা হয়তো টুর্নামেন্ট একটু এগিয়ে এনে আরেকটু ভালো সময়ে করতে পারব।’

একসময় বিপিএলকে বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হতো আইপিএলের পরই সেরা আসর। এখন সেখান থেকে সরে এসেছে তাদের দৃষ্টি। আয়োজকেদের প্রত্যাশা ঘরোয়া আসরের সেরা আয়োজন করা। ডা. ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের ঘরোয়া অন্যতম সেরা টুর্নামেন্ট করতে। আগের প্যারামিটার দিয়ে বলতে পারব না আমরা একেবারে আইপিএলে মানের বা পিএসএলের যে মানে করতে যায় সেটা আমাদের জন্য করা এই মুহূর্তে কঠিন হবে। কারণ এটা অনেক খরচের ব্যাপার। তাহলে একেকটা ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রি করতে হবে অনেক টাকায়। আমাদের অন্য মডেলে যেতে হবে। এখন পর্যন্ত হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতেই যেতে পারি না। আমাদের ভেন্যু রেডি না এজন্য। আমাদের ওয়ান অব দ্য বেস্ট ঘরোয়া টুর্নামেন্ট করতে চাই।’

বিপিএলের পরবর্তী তিন আসরের জন্য ফ্রাঞ্চাইজি বিক্রি করা হয়েছে, ফরচুন বরিশাল স্পোর্টস লিমিটেড, খুলনা মাইন্ডট্রি লিমিটেড, ঢাকা প্রগতি গ্রিন অটো রাইস মিলস লিমিটেড, সিলেট ফিউচার স্পোর্টস বাংলাদেশ লিমিটেড, রংপুর বসুন্ধরা গ্রুপের টগি স্পোর্টস লিমিটেড, চট্টগ্রাম ডেল্টা স্পোর্টস লিমিটেড ও কুমিল্লা রিজেন্ডস লিমিটেডের কাছে।

এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি আসরের জন্য দেড় কোটি টাকা করে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ফ্রাঞ্চাইজি ফি, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের গ্যারান্টি মানি একবারেই আগামী ১৪-১৫ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য বিপিএল গর্ভনিং কাউন্সিল থেকে বলা হয়েছে।

এমপি/এসজি


বিভাগ : খেলা