খেলা
সুপার ফোরে দুর্দান্ত সূচনা ভারতের, পাকিস্তানকে হারাল ৬ উইকেটে
এশিয়া কাপের সুপার ফোরে টানা জয়ের ধারা ধরে রেখেছে ভারত। পাকিস্তানের রেকর্ড সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি; ৬ উইকেটের বড় জয় নিয়েই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করল সূর্যকুমার যাদবের দল।
করমর্দন বিতর্কের রেশ ছাপিয়ে আবারও মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ম্যাচের প্রথম ভাগে পাকিস্তান ব্যাট হাতে দাপট দেখালেও শেষ পর্যন্ত ভারতের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি তারা।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান নিজেদের টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৭১ রান। ইনিংসের প্রথম ১০ ওভারে দারুণ শুরু করলেও শেষ ভাগে রান তুলতে হিমশিম খায় তারা। একপর্যায়ে টানা ৩৯ বল কোনো বাউন্ডারি না আসায় গতি হারায় ইনিংস।
পাকিস্তানের ইনিংসে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শাহেবজাদা ফারহান। তিনি ৪৫ বলে ৫৮ রান করেন, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা। দ্বিতীয় উইকেটে সাইম আইয়ুবের সঙ্গে তার জুটি যোগ করে ৭২ রান। তবে দুজন সেট ব্যাটারকেই ফেরান ভারতের পার্ট–টাইম বোলার শিভম দুবে। তিনি ৪ ওভারে ৩৩ রান খরচে তুলে নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। শেষ দিকে ফাহিম আশরাফ (৮ বলে ২০*) ও অধিনায়ক সালমান আগা (১৩ বলে ১৭*) চেষ্টা করলেও ১৭১ রানের বেশি যেতে পারেনি দলটি।
ভারতের বোলারদের মধ্যে শিভম দুবের পাশাপাশি বরুণ চক্রবর্তী (৪–০–২৫–০) ও কুলদীপ যাদব (৪–০–৩১–১) ছিলেন নিয়ন্ত্রিত। ফলে পাকিস্তানি ব্যাটাররা শেষ পর্যন্ত হাত খুলে খেলতে পারেননি।
১৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত কিছুটা চাপে পড়লেও ম্যাচ শেষ করে ৭ বল হাতে রেখেই। পাকিস্তানের বোলাররা মাঝেমধ্যে চেপে ধরলেও ভারতের টপ অর্ডারের সুশৃঙ্খল ব্যাটিং জয় এনে দেয়।
তবে ব্যাট হাতে হতাশ করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তিনি শূন্য রানে ফিরেছেন, যা ভারতীয় সমর্থকদের মনে করিয়ে দিয়েছে ২০ বছর আগের এক দৃশ্য। সর্বশেষ কোনো ভারতীয় অধিনায়ক পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচে শূন্য রানে ফিরেছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। ২০০৫ সালে কোচির ওয়ানডেতে প্রথম বলেই আউট হয়েছিলেন তিনি। দুই দশক পর সেই অস্বস্তিকর স্মৃতি ফিরল সূর্যকুমারের ব্যাটে।
অবশেষে নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে এশিয়া কাপে টানা দ্বিতীয়বার পাকিস্তানকে হারিয়ে সুপার ফোরে শক্ত অবস্থান গড়েছে ভারত। এই জয় শুধু দুই পয়েন্ট নয়, মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়েও এগিয়ে দিল তাদের।