খেলা
সমঝোতায় মাঠে ফিরছে বিপিএল, আজ থেকে শুরু হচ্ছে খেলা
বিসিবি পরিচালকের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্রিকেটারদের বয়কটের মুখে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) অবশেষে সমঝোতার মাধ্যমে আবার শুরু হতে যাচ্ছে।
নানা নাটকীয় ঘটনার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সমঝোতায় পৌঁছান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেটার প্রতিনিধিরা। এর ফলে আজ থেকেই আবার মাঠে গড়াচ্ছে বিপিএলের দ্বাদশ আসর।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানের নাভানা টাওয়ারে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে বিপিএল পুনরায় শুরুর ঘোষণা দেন টুর্নামেন্টের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান। তবে এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিপিএলের অনিশ্চিত চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে মাঠে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটানসের ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মাঠে দেখা যায়নি কোনো ক্রিকেটারকে। গ্রাউন্ডস কমিটির স্টাফ ছাড়া স্টেডিয়াম ছিল কার্যত ফাঁকা। দুই দলের ক্রিকেটাররা কেউই হোটেল থেকে মাঠে আসেননি। এমনকি ধারাভাষ্যকার ওয়াকার ইউনুস, রমিজ রাজা, নিক কম্পটন, পারভেজ মারুফ, আতহার আলি খান ও মাজহারউদ্দিন অমিরাও ধীরে ধীরে মাঠ ছেড়ে হোটেলের দিকে ফিরে যান। তখনই নিশ্চিত হয়ে যায়, দিনের দ্বিতীয় ম্যাচটিও হচ্ছে না।
এর আগে ক্রিকেটারদের বয়কটের কারণে দিনের প্রথম ম্যাচ নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের মধ্যকার খেলাও বাতিল করা হয়। সন্ধ্যায় ধারাভাষ্যকারদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, সেদিনের দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে না এবং পরবর্তী সূচি পরে জানানো হবে। এমন পরিস্থিতিতে বিসিবির এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিপিএলের বাকি ম্যাচগুলোও না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং পুরো আসর স্থগিত হয়ে যেতে পারে।
ক্রিকেটারদের বয়কটে বিপিএলের খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম। মূলত বিসিবি পরিচালক ও ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্য থেকেই এই সংকটের সূত্রপাত। কয়েক দিন আগে মিডিয়ার সামনে ক্রিকেটারদের আয় ও ব্যর্থতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বকাপে না খেললে বিসিবির কোনো সমস্যা হবে না, সমস্যা হবে ক্রিকেটারদের। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের পেছনে বিসিবির অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ব্যর্থ হলে সেই টাকা ফেরত নেওয়া হয় না কেন।
এই বক্তব্যকে ক্রিকেটারদের প্রতি কটূক্তি হিসেবে দেখেন জাতীয় দলের ও বিপিএলের খেলোয়াড়রা। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন স্পষ্টভাবে জানান, এম নাজমুল ইসলামকে অব্যাহতি না দেওয়া হলে তারা বিপিএলের পরবর্তী ম্যাচগুলো বয়কট করবেন। সেই ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় বৃহস্পতিবার, যখন কোনো ক্রিকেটারই মাঠে নামেননি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিসিবি ওই রাতেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও ক্রিকেটাররা তাদের অবস্থানে অনড় থাকেন। এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা। এ দাবির পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। কোয়াব সভাপতি মিঠুনসহ তিন অধিনায়ক একযোগে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে বিসিবি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, এম নাজমুল ইসলামকে ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে ক্রিকেটাররা এতে সন্তুষ্ট হননি এবং তাকে পরিচালক পদ থেকেও সরানোর দাবিতে অনড় থাকেন। বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো পরিচালককে সরাসরি অপসারণের বিধান না থাকলেও, সংশ্লিষ্ট ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ বাতিল হলে তার পরিচালক পদ হারানোর সুযোগ রয়েছে।
চলমান সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে বিসিবি পরিচালকদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে কোয়াব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে। এম নাজমুল ইসলামের পরিচালক পদ নিয়ে প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও তিনি যদি প্রকাশ্যে ক্ষমা চান, তাহলে আজ থেকেই বিপিএলে মাঠে ফিরতে প্রস্তুত ক্রিকেটাররা।
সবশেষ সমঝোতার মাধ্যমে বিপিএল আবার শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত আসায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রিকেট অঙ্গনে। এখন দেখার বিষয়, এই সমঝোতা কতটা টেকসই হয় এবং মাঠের ক্রিকেট কত দ্রুত আগের ছন্দে ফিরতে পারে।