পর্যটন

দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকের ঢল রাঙামাটিতে, জমজমাট পর্যটনকেন্দ্র


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকের ঢল রাঙামাটিতে, জমজমাট পর্যটনকেন্দ্র
ছবি: সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে অবকাশযাপনে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন পর্যটকেরা। তাঁদের সরব উপস্থিতিতে পাহাড়ি জনপদজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রাঙামাটির পাশাপাশি খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও পর্যটকদের আগমনে বেড়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।

রাঙামাটি শহর ও আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। সবুজ পাহাড়, বিস্তীর্ণ কাপ্তাই হ্রদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। ছুটির আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পাহাড়ঘেরা এই পর্যটন নগরে। পর্যটকদের আগমনে শহরের বিভিন্ন সড়ক, দর্শনীয় স্থান ও নৌযানঘাটে বেড়েছে ব্যস্ততা।

পর্যটকদের যাতায়াতেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি চাপ। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে আসছেন ভ্রমণকারীরা। পাশাপাশি পিকনিকের যাত্রীবাহী বাসেও আসছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও দলীয় ভ্রমণের অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের উপস্থিতিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের নৌযানঘাটের ব্যবস্থাপক মো. ফকরুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের আনাগোনায় সারা দিনই ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্যুরিস্ট বোটচালকেরা। রাঙামাটিতে ঘুরতে এসে অধিকাংশ পর্যটকই কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণ করতে চান। হ্রদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় নৌযানচালকদের আয়ও বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে নৌযানশ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহ আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাঙামাটি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, পর্যটন কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার পর্যটকের আগমন ঘটছে। পর্যটকদের এই বাড়তি উপস্থিতিতে পর্যটন খাত থেকে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি পর্যটন মোটেলের কটেজগুলোও বর্তমানে পুরোপুরি বুকিং রয়েছে।

অন্যদিকে, পর্যটকদের চাপে আবাসিক হোটেলগুলোতেও বাড়ছে ব্যস্ততা। রাঙামাটি হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোস্তফা কামাল উদ্দীন জানান, জেলার ৫৫টি হোটেলে বর্তমানে প্রায় ৬৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। পর্যটকদের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বুকিং কার্যক্রমও চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় শিগগিরই হোটেলগুলোর কক্ষ শতভাগ বুকিং হয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের এই আগমন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা, নৌযান পরিবহন ও হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পর্যটকদের আনাগোনা অব্যাহত থাকলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আয় বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। পাহাড়, হ্রদ ও প্রকৃতির টানে রাঙামাটিতে পর্যটকদের এমন উপস্থিতি পাহাড়ি পর্যটনশিল্পের জন্যও আশাব্যঞ্জক।