ক্যাম্পাস

হাসপাতালে ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী বাঁধনের মৃত্যু


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

হাসপাতালে ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী বাঁধনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বাঁধনের মৃত্যু হয়েছে। কীটনাশক পান করার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তিনি মারা যান। প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি কীটনাশক পান করেছিলেন বলে বিভাগসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে শাহরিয়ার বাঁধনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইকবাল আহমেদ সিদ্দিকী। নিহত বাঁধনের বয়স ছিল ২১ বছর। তিনি রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়। পড়াশোনার সুবাদে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসসংলগ্ন টিলারগাঁও এলাকার একটি মেসে থাকতেন।

বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, বাঁধনের সঙ্গে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার রাতে ওই তরুণী ও তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে বাঁধনের কথা-কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। বাঁধনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে এ-সংক্রান্ত কল রেকর্ড ও বার্তা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সহপাঠীদের বরাতে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে টিলারগাঁও এলাকার মেসে থাকা অবস্থায় কীটনাশক পান করেন শাহরিয়ার বাঁধন। প্রথমদিকে তিনি বিষয়টি সহপাঠীদের জানাননি। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার কীটনাশক পানের বিষয়টি জানাজানি হলে সহপাঠী এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

হাসপাতালে ভর্তি করার পর বাঁধনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। সেখানে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইকবাল আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, চিকিৎসকেরা কিছুক্ষণ আগেই বাঁধনকে মৃত ঘোষণা করেছেন। খবর পাওয়ার পর বিভাগের শিক্ষকেরা হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে বাঁধন কীটনাশক পান করেছিলেন। এর আগেও প্রায় তিন মাস আগে তিনি ইঁদুর মারার বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে। ওই সময়ও তাকে চার থেকে পাঁচ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।

শাহরিয়ার বাঁধনের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।