ক্যাম্পাস

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবারও গরুভোজ, সন্ধ্যায় থাকছে কাওয়ালি অনুষ্ঠান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবারও গরুভোজ, সন্ধ্যায় থাকছে কাওয়ালি অনুষ্ঠান
ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবারও গরুভোজের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এ উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গরু জবাই এবং বিকেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গরুর মাংসের তেহারি বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে কাওয়ালি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য খাসির মাংসের ব্যবস্থা করারও চেষ্টা করছেন আয়োজকেরা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে তেহারি বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। কর্মসূচিতে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪০ টাকা করে নিবন্ধন ফি নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৮০ হাজার টাকায় একটি গরু কেনা হয়েছে। পাশাপাশি খাসি কেনার প্রক্রিয়াও চলছে। খাসি পাওয়া না গেলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য খাসির কাচ্চির ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব ওবায়দুল ইসলাম আরটিভিকে বলেন, ক্যাম্পাসে সবার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান তারা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনার প্রতিবাদে শনিবার গরু জবাই করে ভোজের আয়োজন করা হবে। অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্যও খাসির ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। খাসি পাওয়া না গেলে তাদের জন্য খাসির কাচ্চির ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শনিবারের কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গরুভোজের পাশাপাশি সন্ধ্যায় কাওয়ালি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান আরটিভিকে বলেন, শুক্রবার শিক্ষার্থীদের গরুভোজের আয়োজন নিয়ে প্রশাসনের আপত্তি থাকলেও সার্বিক পরিবেশ ভালো ছিল এবং কর্মসূচি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস আবারও গরুভোজের আয়োজন করতে চাইলে প্রথমে অনুমতি দিতে চায়নি প্রশাসন। তবে সংগঠনটির নেতা মামুনুর রশিদ উপাচার্যকে ফোন করে অনুরোধ জানান। পরে শর্ত সাপেক্ষে আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

প্রক্টর আরও জানান, শুক্রবার যে স্থানে গরুভোজের আয়োজন করা হয়েছিল, শনিবারও একই স্থানে কর্মসূচি করতে হবে। পাশাপাশি আয়োজনটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

এর আগে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গরু ও খাসির ভোজের আয়োজন করা হয়। এর আগে ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়। এ নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ক্যাম্পাসে গরুভোজের আয়োজন করা হয়।