শিক্ষা

ঢাকা বোর্ডের সামনে এসএসসিতে ফেল করাদের বিক্ষোভ, ৪ দফা দাবি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫, ০৫:৫৯ পিএম

ঢাকা বোর্ডের সামনে এসএসসিতে ফেল করাদের বিক্ষোভ, ৪ দফা দাবি
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীরা কলেজে ভর্তি ও অতিরিক্ত (সাপ্লিমেন্টারি) পরীক্ষার দাবিতে রাজধানীর বকশিবাজারে অবস্থিত ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, ফলাফল প্রক্রিয়ায় ‘অবিচার’ হয়েছে এবং তা দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার না করেই শুধুমাত্র পাসের নিয়মে পরিবর্তন এনে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, রচনামূলক অংশে ভালো ফল করলেও শুধুমাত্র এক বা দুই নম্বর কম থাকায় এমসিকিউ অংশে তারা ফেল করেছেন। ফলে, এক বছরের জন্য তারা শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ছিটকে পড়েছেন।

তারা বলেন, "এই ব্যর্থতার দায় শিক্ষার্থীদের নয়, বরং প্রশ্নের মান, বোর্ডভেদে ভিন্নতা এবং নিয়মহীন পরিবর্তনের ফল। আমাদের অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। কলেজে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলনে থাকবো।"

শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি:

১. প্রশ্নপত্রের বৈষম্য দূর করতে হবে: বোর্ডভেদে প্রশ্নের মান ও জটিলতায় যেসব অসঙ্গতি ছিল, সেগুলো বিচার করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

২. সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে: অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত অতিরিক্ত (সাপ্লিমেন্টারি) পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে।

৩. পাসের নিয়মে নমনীয়তা আনতে হবে: এমসিকিউ ও রচনামূলক (CQ) অংশ মিলিয়ে সম্মিলিতভাবে পাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. কলেজে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে: যারা এখন অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে কলেজে ভর্তি হওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

শিক্ষার্থীরা জানান, এই বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, যা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন সংখ্যা। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেকেই মানসিক চাপে ভুগছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আমরা বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে তুলে ধরবো।”

এর আগে ১৪ ও ১৫ জুলাইও ফেল করা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ঢাকা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

গত ১০ জুলাই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এরপর ১১ জুলাই এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে “এসএসসি ২০২৫ ব্যাচের অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের পক্ষে” নামে একটি সংগঠন চার দফা দাবি উত্থাপন করে আন্দোলনের ঘোষণা দেয়।