শিক্ষা

স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মেয়াদে ‘প্রধানমন্ত্রীর স্টাইল’


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:১৭ পিএম

স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মেয়াদে ‘প্রধানমন্ত্রীর স্টাইল’
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর মতোই এবার সীমা বেঁধে দেওয়া হলো বেসরকারি স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদে। টানা দুইবারের বেশি আর সভাপতি হওয়া যাবে না; তবে একটি মেয়াদ বিরতির পর আবারও সভাপতি পদে ফিরে আসার সুযোগ থাকছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নতুন প্রবিধান জারি করে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

‘ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৫’ শীর্ষক গেজেটে বলা হয়েছে—

- সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর বা চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি।

- একজন ব্যক্তি টানা দুই মেয়াদের বেশি সভাপতি হতে পারবেন না; তবে একটি মেয়াদ বিরতির পর পুনরায় মনোনয়ন পাওয়া যাবে।

- কোনো ব্যক্তি একসাথে একটির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারবেন না।

- সর্বোচ্চ তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গেজেট অনুযায়ী, বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা একটি ম্যানেজিং কমিটির হাতে থাকবে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন—

- একজন সভাপতি

- সাধারণ শিক্ষক প্রতিনিধি (স্তরভেদে ২ থেকে ৩ জন)

- সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক প্রতিনিধি

- সাধারণ অভিভাবক প্রতিনিধি (৪ থেকে ৫ জন)

- সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক প্রতিনিধি

- প্রতিষ্ঠাতা প্রতিনিধি

সভাপতি মনোনয়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বোচ্চ তিনজনের নাম ও জীবনবৃত্তান্ত শিক্ষা বোর্ডে পাঠাবেন। প্রার্থীদের তালিকায় থাকতে পারবেন—

- সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ৯ম গ্রেড বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অথবা অবসরপ্রাপ্ত ৫ম গ্রেড বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

- সরকারি কলেজ বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক/অধ্যাপক

- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা

- এমবিবিএস, প্রকৌশল বা কারিগরি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী কর্মকর্তা

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, নতুন নীতিমালায় সভাপতি নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড স্পষ্ট করা হয়েছে। একই ব্যক্তির দীর্ঘদিন সভাপতি থাকা বন্ধ হলে ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য আসবে এবং নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে।