বিনোদন

ভাইরাল হওয়া আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন মেহজাবীন


বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ পিএম

ভাইরাল হওয়া আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন মেহজাবীন
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তারকাদের চেহারা বসিয়ে তৈরি করা আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সামাজিক মাধ্যমের পেজ হ্যাক হওয়ার পর সেখানে প্রকাশিত এসব ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি। তবে এ নিয়ে বিতর্ক থামেনি। এমন পরিস্থিতিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং এগুলো প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন লিখেছেন, ‘এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়, বরং অপরাধ।’

তার মতে, একই ধরনের কনটেন্ট যখন শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকেন, তখন বিষয়টি আর শুধু একজনের অপরাধে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং এর মধ্য দিয়ে বড় একটি সামাজিক সমস্যার চিত্র সামনে আসে। এ পর্যায়ে সমাজের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

মেহজাবীন মনে করিয়ে দিয়েছেন, এমন ডিপফেকের শিকার যদি কারও পরিবারের সদস্য হতেন, তাহলে কি তিনি একইভাবে বিষয়টি দেখতেন? তবে এবার সেই পুরোনো উদাহরণও দিতে চাননি অভিনেত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে, একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত! কারণ কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে, তাকে আমাদের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন?’

সামাজিক মাধ্যমে ভিউ, লাইক, শেয়ার ও জনপ্রিয় হওয়ার প্রতিযোগিতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেহজাবীন। তিনি স্বীকার করেছেন, অনেকের কাছে কনটেন্ট তৈরি এখন জীবিকা নির্বাহের একটি মাধ্যম। মানুষের সংগ্রাম ও বাস্তবতাকেও তিনি অস্বীকার করছেন না। তবে তার প্রশ্ন, ‘কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?’

মেহজাবীনের মতে, জনপ্রিয়তা কিংবা অর্থ উপার্জনের আশায় অন্য কাউকে অপদস্থ করার প্রবণতা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কাউকে হেয় করে কিংবা তার পরিচয় ব্যবহার করে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে না।

অভিনেত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, এই সমস্যা এখন শুধু নারী কিংবা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভিউ, সম্পৃক্ততা ও জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতায় ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে যে কেউ যুক্ত হতে পারেন, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারেন।

তবে শুধু যারা এসব কনটেন্ট তৈরি করছেন, তাদের নিয়েই উদ্বিগ্ন নন মেহজাবীন। যারা স্বেচ্ছায় এসব ভিডিও শেয়ার করছেন, আলোচনা করছেন এবং আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তাদের ভূমিকাও তাকে ভাবিয়ে তুলছে।

পোস্টের শেষাংশে এসব ভিডিও শেয়ারকারীদের নিজেদের বিবেক নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন মেহজাবীন। তার ভাষ্য, ‘একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, ভেবে দেখতে পারেন।’