সারাবিশ্ব
পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় দেশ
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। সোমবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন। এর ফলে গত এক দশকে দেশটি সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
পদত্যাগের পর লন্ডনের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্টারমার। তিনি জানান, দলের সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে মেনে নিয়েছেন এবং যিনি তার স্থলাভিষিক্ত হবেন, তাকে পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন দেবেন।
বড় ব্যবধানে নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন নাকি সরে দাঁড়াবেন—এ সিদ্ধান্ত নিয়ে গত সপ্তাহজুড়ে গভীরভাবে চিন্তা করছিলেন স্টারমার। সূত্রটির ভাষ্য, কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে পছন্দ করেন।
কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছিল। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে একটি উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বড় জয়কে কেন্দ্র করে। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি আবারও পার্লামেন্টে ফেরার সুযোগ পান।
বার্নহ্যাম এমন এক প্রার্থীকে পরাজিত করেন, যিনি নাইজেল ফারাজের সমর্থন পেয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে এই বিজয় লেবার দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
দলটির অনেক আইনপ্রণেতার ধারণা, দক্ষ যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততার কারণে বার্নহ্যাম দলের হারানো জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পারেন। অন্যদিকে স্টারমারের জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
নতুন নেতৃত্বের সামনে কঠিন পরীক্ষা
তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরও চ্যালেঞ্জ কমছে না। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে বার্নহ্যামের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতৃত্বকেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জনঅসন্তোষের দ্বৈত চাপ মোকাবিলা করতে হবে। উচ্চ ঋণ, সুদ পরিশোধের বাড়তি ব্যয়, দীর্ঘদিনের ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা ব্রিটেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। আর্থিক বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথা আগে উল্লেখ করেছিলেন বার্নহ্যাম। তবে পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। নতুন নেতৃত্ব আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।