আইন আদালত
শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় ৭ জুন
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা মামলার রায় আগামী ৭ জুন (রবিবার) ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত যুক্তিতর্ক গ্রহণ শেষে এ দিন ধার্য করেন।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে দাবি করে, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের কাছে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানায়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মামলায় কোনো ডিএনএ পরীক্ষা হয়নি, ঘটনাস্থল থেকে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়নি। এসব কারণে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি দাবি করে তিনি আসামিদের খালাস প্রার্থনা করেন।
এদিন আদালতে যুক্তিতর্ক শুনানিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এর আগে বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করা হয়। শুনানির জন্য আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ভিডিও প্রমাণ ও আলামত উপস্থাপন করেন। এতে ভিকটিমকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্বপ্না আক্তার সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন।
শুনানিতে আসামি সোহেল রানা আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নিজের দোষ স্বীকারের ইঙ্গিত দেন। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে ভিকটিমের মা, স্বজন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পর্যায়ক্রমে আদালতে সাক্ষ্য দেন।
এ বহুল আলোচিত মামলার রায়কে ঘিরে জনমনে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।