সারাদেশ

বগুড়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের কনস্টেবলকে গণধোলাই


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৫, ১০:৩২ এএম

বগুড়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের কনস্টেবলকে গণধোলাই
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শাজাহানপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে রুহুল আমিন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হতে হয়েছে। ৩ জুলাই (বুধবার) শাজাহানপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে রুহুল আমিনকে উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেয়। বর্তমানে তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রুহুল আমিন সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার কয়রা শরতলী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শাজাহানপুর থানায় দীর্ঘদিন বিভিন্ন অফিসার ইনচার্জের (ওসি) দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিছুদিন আগে বদলি হয়ে বর্তমানে বগুড়ার সারিয়াকান্দী থানার চন্দনবাইসা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।

ঘটনার পর নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শাপলা খাতুন শাজাহানপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, কিছুদিন আগে রুহুল আমিন ডিবি পুলিশের পরিচয়ে শাপলার বাবা মো. আব্দুল বাকি শাহের (৬০) বাড়িতে যান এবং তাকে না পেয়ে ৫০০ টাকা নিয়ে যান।

পরে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি আবার শাপলার ছোট ভাই সাজ্জাদ হোসেন সবুজের (৩২) খোঁজে আসেন এবং তাকে বলেন, বাড়ির দক্ষিণ পাশে কিছু আছে যা তাকে উদ্ধার করতে হবে। সবুজ রুহুল আমিনের কথামতো গিয়ে কলাবাগানের এক কোণে একটি টিনের কৌটা খুঁজে পান, যাতে ছিল ২০ রাউন্ড বুলেট।

এই বুলেটগুলোকে থানায় ‘মিসিং বুলেট’ হিসেবে রেকর্ড করার ভয় দেখিয়ে রুহুল আমিন সবুজের কাছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, তার সঙ্গে আরও ৮-৯ জন সিভিল পোশাকে পুলিশ সদস্য রয়েছে, যাদের ম্যানেজ করতে এই টাকা প্রয়োজন।

সবুজ বিষয়টি তার বোন শাপলা খাতুন ও দুলাভাই মো. শাহাদত আলমকে জানান। তারা ঘটনাস্থলে এসে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রুহুল আমিন শাপলার মেয়েকে অপহরণের হুমকি দেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, “চাঁদাবাজির অভিযোগে কনস্টেবল রুহুল আমিনকে আটক করেছিল জনতা। তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযোগটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একজন আইন রক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।