বুধবার, ২৯ মে ২০২৪ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
Dhaka Prokash

সেই সেন্টুর পাশে দাঁড়ালেন ডিসি

ঋণের দায়ে যখন দিশেহারা পরিবার, তখনই শ্বাসের টান এসে স্থায়ীভাবে বাসা বেঁধেছে সেন্টুর সংসারে। এতদিন প্রতি সপ্তাহে টানতে হতো ২ হাজার ৭০০ টাকার কিস্তির বোঝা। এখন ফুসফুস বিকল হয়ে সেখানে যোগ হয়েছে ওষুধসহ চিকিৎসার আনুষাঙ্গিক খরচ বাবদ আরও ৬০০ টাকা। আর সেই খরচ সামলাতেই নাকে অক্সিজেন লাগিয়েই রিকশা নিয়ে বাইরে বের হয়েছিলেন মইনুজ্জামান ওরফে সেন্টু। এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানবিকতার দোয়ারে ঝড় তুললেও স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি এখনো তার পাশে দাঁড়ানো তো দূরে থাক, খোঁজও নেয়নি!

তবে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে সেন্টুর সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আহমেদ। এসময় তিনি তার চিকিৎসার সব খরচ বহনের আশ্বাস দেন।

ডিসি বলেন, সেন্টুকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর মেশিন দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন সেন্টুর চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করবে।

রিকশাচালক মইনুজ্জামান ওরফে সেন্টুর বাড়ি রাজশাহী নগরের কলাবাগান মহল্লায়। দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা তিনি। ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে বিয়ে করে পবা উপজেলার দারুশা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। নগরের কলাবাগান এলাকায় ২ হাজার টাকা ভাড়া বাসায় মইনুজ্জামান ও তার স্ত্রী চম্পা বেগম থাকেন। ৫ বছর ধরে ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন তিনি।

শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি আর রিকশা চালাতে পারবেন না। কিন্তু কোনো উপায়ান্তর না দেখে সর্বশেষ দুই দিন নাকে অক্সিজেনের নল নিয়েই রিকশা চালিয়েছেন। এই দৃশ্য সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত রবিবার তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা যায়, ঋণ নিয়ে একটি রিকশা কিনেছিলেন মইনুজ্জামান ওরফে সেন্টু। সেই রিকশা চুরি হয়ে যায়। নতুন করে ঋণ করে আরেকটি রিকশা কিনে চালাচ্ছিলেন। এর মধ্যে ফুসফুসের সমস্যার কারণে চিকিৎসকরা নাকে অক্সিজেনের নল পরিয়ে দেন। সংসার চালাতে অক্সিজেনের নল পরেই রিকশা চালাচ্ছিলেন তিনি।

সেন্টু জানান, ৫ বছর আগে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি রিকশা কিনেছিলেন। দুই বছরের মাথায় নগরের ঘোষপাড়ায় রিকশাটি চুরি হয়ে যায়। পরে আবার ৮০ হাজার টাকা ঋণ করে আরেকটি রিকশা কেনেন। সেই রিকশাই চালাতেন। এরই মধ্যে ‘হার্নিয়া অপারেশনের’ জন্য আরও ৫০ হাজার টাকা ঋণ করেছিলেন। প্রতি সপ্তাহে দুই জায়গায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা করে কিস্তি দিতে হয়। দিনে তিনটি অক্সিজেন সিলিন্ডার লাগে। ওষুধ আর অক্সিজেন মিলিয়ে তার দিনে ৬০০ টাকা খরচ হয়। দুই মাস ধরে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অক্সিজেন ছাড়া চলতে পারছিলেন না।

তিনি আরও জানান, ডাক্তার বলেছেন, তার ফুসফুস নষ্ট হয়ে গেছে। এখন একটি যন্ত্র কিনতে হবে। সেটা সব সময় নাকে লাগিয়ে রাখতে হবে। তাতে আপনা আপনি বাতাস থেকে অক্সিজেন আসবে। এই মেশিনের দাম ৫০ হাজার টাকা। তিনি চিকিৎসকের সই করা সেই কাগজ পকেট থেকে বের করে দেখালেন। তাতে লেখা আছে ‘কনসেনট্রেটর’। এই যন্ত্রটি কিনে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক।

হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের চিকিৎসক অধ্যাপক হাসান তারিক জানান, সিওপিডি ও যক্ষ্মা হওয়ায় তার ফুসফুস দুর্বল ও হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন নিতে পারছেন না। ‘কনসেনট্রেটর’ নামের যন্ত্র লাগিয়ে তিনি বাড়িতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলে স্বাভাবিকভাবে বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে পারবেন। তখন তার অক্সিজেনের খরচ লাগবে না।

এসজি

Header Ad

তৃতীয় ধাপে ৮৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু

তৃতীয় ধাপে ৮৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু। ছবি: সংগৃহীত

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে দেশের ৮৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ১৬ উপজেলায় এবং বাকিগুলোতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলছে।

তৃতীয় ধাপে ১১২ উপজেলায় ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মৃত্যুজনিত ও মামলার কারণে ধাপ পরিবর্তন হয়েছে দুটি উপজেলার, আর পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার তিন পদের সবাই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় এবং ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ২২ উপজেলার ভোট স্থগিত হওয়ায় এই ধাপে ৮৭ উপজেলায় ভোট হবে। এই ধাপে চেয়ারম্যান পদে একজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাতজনসহ মোট ১২ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে ভোট করার সুযোগ থাকলেও স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বা মনোনয়ন দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ফলে, আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। অন্যদিকে বিএনপির অল্প কিছু নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়লেও, দলটি উপজেলা পরিষদের ভোট বর্জন করেছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপে মোট এক হাজার ১৫২ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৯৭, ভাইস চেয়ারম্যান ৪৫৬ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৯৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫৬টি পৌরসভা ও ৮৪১টি ইউনিয়নের দুই কোটি ৮ লাখ ৭৫ হাজার ১৮৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে সাত হাজার ৪৫০টি। এর মধ্যে দুর্গম এলাকার ৪১৪টি কেন্দ্রে গতকাল রাতেই ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। বাকি সাত হাজার ৩৬টি কেন্দ্রে আজ ভোরেই এসব সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।

নির্বাচনে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোট বিজিবি মোতায়েন থাকবে ২৯৯ প্লাটুন। ভোটকেন্দ্রে মোট পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে ২৯ হাজার ৯৫৮ জন, মোবাইল টিমে মোট পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে সাত হাজার ৭৯৪ জন, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোট পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে তিন হাজার ৩৬৪ জন। সর্বমোট পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে ৫৯ হাজার ২১৯ জন। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোট র‌্যাব মোতায়েন থাকবে ২৩০টি টিম। ভোটকেন্দ্র এবং মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোট আনসার সদস্য মোতায়ন থাকবে এক লাখ ৪০ হাজার ৬৬৯ জন। নির্বাচনে স্বাভাবিক এলাকার ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ, চৌকিদার, দফাদারসহ মোট ১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ থেকে ১৯ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ এলাকার (পার্বত্য ও দুর্গম এলাকা) সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২০ থেকে ২১ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিবসের পূর্ববর্তী মধ্যরাত অর্থাৎ ২৮ মে দিনগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ২৯ মে দিনগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ৮৭টি উপজেলায় তিনদিনের জন্য মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে গত সোমবার মধ্যরাত থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে নামানো হয়েছে র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচন অপরাধ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচার কাজ পরিচালনায় মাঠে রয়েছেন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও আচরণ বিধি প্রতিপালনে নিয়োজিত করা হয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

ভোটের প্রস্তুতির বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, ‘আগের মতোই ভালো প্রস্তুতি আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে যা ছিল, এই ধাপে তার চেয়ে আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। অতএব সেটায় কোনো সমস্যা নেই। আবহাওয়া কেমন থাকবে বা না থাকবে সেটার উপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে। ভোটার উপস্থিতি কেমন হবে, এই মুহূর্তে আমরা বলতে পারছি না। এটি ভোটের দিনই বোঝা যাবে।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ইসি আলমগীর বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা এবং কমিশন খুব কঠোর অবস্থানে আছে। অতএব আমরা মনে করি না, সহিংসতা করে কেউ পার পাবে। যারা নিজেদের ভালো চাইবেন তারা সহিংসতা করতে চাইবেন না, এটাই স্বাভাবিক।’

বিকেল তিনটা বা তার আগে খুব কম সংখ্যক ভোট কাস্ট হয়। ওই সময়ে ১০, ১২ বা ১৫ শতাংশ ভোট পড়ে। কিন্তু, ৪টা নাগাদ ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রীয়ভাবে যখন ফলাফলটা আসে তখন শতাংশটা বেড়ে যায়। জনশ্রুতি যেটা থাকে, হয়তো কমিশন ওখান থেকে ভোটের হার বাড়িয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নজরে আনলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এটি একেবারেই এবসার্ট। যদি ১ শতাংশ ভোটও পড়ে তাহলেও কমিশন হ্যাপি। আমাদের কঠোর নির্দেশ, ভোটার যদি একজন আসে কোনো কেন্দ্রে ওই একটি ভোটেই হবে। দুইটা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। ভোট বাড়ানো বা কমানোর কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি এ কাজ করে এবং তা যদি প্রমাণ হয়, তার বিরুদ্ধে আমরা কঠিন ব্যবস্থা নেব।’

তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে তিন হাজার ২৭৭ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন কমিশন। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ১৫টি পর্যবেক্ষক সংস্থার কেন্দ্রীয়ভাবে ২২৯ জন ও স্থানীয়ভাবে তিন হাজার ৪৮ জন পর্যবেক্ষককে এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। আগামী ৫ জুন চতুর্থ ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

পেটে গজ রেখেই সেলাই, মারা গেছেন সেই সুমি

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁয় এক প্রসূতির সিজারের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই বার আইসিইউতে নিবির পর্যক্ষেনে থাকার পর মঙ্গলবার (২৮ মে) সকাল ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সেই প্রসূতি নারী সুমি খাতুন (৩৫)। মৃত্যূর খবর জানার পর সুমির পরিবারে ও গ্রামে বইছে শোকের মাতম। এমন মৃত্যূ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা গৃহবধূ সুমির পরিবার।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকের বিচার দাবি করেছেন পরিবার ও প্রতিবেশি স্বজনরা।

এ বিষয়ে গত ২০ মে ‘পেটে গজ রেখেই সেলাই, আইসিইউতে’ শিরোনামে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে টনক নড়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনও প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। এর মাঝেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন সুমি।

সুমির পরিবার ও ক্লিনিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে সকালে প্রসবব্যথা শুরু হলে নওগাঁ শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় অবস্থিত একতা ক্লিনিকে নেয়া হয় ওই প্রসূতি নারীকে। সেখানে ওই দিনই সিজার করান প্রসূতি বিদ্যা ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাক্তার তানিয়া রহমান তনি। সিজারের জন্য জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগ করেন ডাক্তার তানিয়ার স্বামী নওগাঁ সদর হাসপাতালের অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ডাক্তার আদনান ফারুক। সিজারের পরই ওই সুমি তার পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ডাক্তার তানিয়া ক্লিনিকের মার্কেটিং অফিসার আব্দুর রউফকে দিয়ে দ্রুত রোগীর পেটে সেলাই করিয়ে নেয়। তার পর রাত ১০টার দিকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয় সুমিকে। হাসপাতালে নেয়ার পর রাতেই পরিক্ষা করে জানা যায় সুমির পেটে বাড়তি কিছু একটা জিনিস রয়েছে। সেই সাথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় আর সেটার জন্য তাকে পর দিন বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সম্মতিতে ফের অপারেশন করা হয়। এর ১৩দিন পর আজ মঙ্গলবার সকালে মারা যায় সুমি। সুমির এমন মৃত্যুতে শোকের মেছে এসেছে জেলার আত্রাই উপজেলার সন্নাসবাড়ী গ্রামে। সুমির এমন মৃত্যূ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা স্থানীয় প্রতিবেশিরারও।

স্থানীয় প্রতিবেশী ফারজানা খাতুন ও খালেদ বিন ফিরোজ বলেন, পেটে ব্যাথা উঠলো ভর্তি করা হলো সিজারের জন্য। আস্থা ও ভরসা নিয়েই তো ক্লিনিকে ডাক্তার কাছে যায় রোগী। কিন্তু একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেলো। সিজার করার কারনে কিভাবে প্রসূতি মারা যায়। অবশ্যই ভুল অপারেশন বা ভুল চিকিৎসা হয়েছে। নইলে কেন উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ থেকে রাজশাহীতে রেফার করা হলো। আর কত মানুষ অপ-চিকিৎসার কারনে মারা যাবে। মাঝে মাঝে আমরা শুনতে পাই নওগাঁয় ভুল চিকিৎসার কারনে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা। দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হোক এসব ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকদের।

সুমি খাতুনের খালা ফাহিমা বেগম বলেন, আমার ভাগিনীকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনটি বাচ্চার এখন কি হবে। সদ্যজাত সন্তান তো পৃথিবীর আলো দেখার পরই মাকে হারিয়ে ফেললো। ভুল সিজারের কারনেই সুমির মৃত্যু হয়েছে। জড়িত সবার কঠিন শাস্তি চাই আমরা।

সুমির খাতুনের মা রহিমা বেগম বেগম বলেন, অভিযুক্তরা তাদের লোকজনের মাধ্যমে টাকার অফার দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাঁপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। আমরা তাতে রাজি হইনি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ডাক্তাররা যখন প্রথমে সুমিকে দেখেছিল তখনই বলেছিল এই রোগীর অবস্থা খুব খারাপ নওগাঁতে প্রোপার ভাবে সিজারিয়ান করা হয়নি। তার পর যখন সেখানে অপারেশন করলো তখন ডাক্তাররা জানাই সুমির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও পেটে সামান্য গজ ছিল। যার কারনে শারীরিক অবস্থা ভালো ছিলনা। দুই বার আইসিইউতে নেওয়ার পরও আমার মেয়েটাকে বাঁচানো গেলনা। আমার মেয়েটাকে নওগাঁর একতা ক্লিনিকে গরুকে সেলাই করার মত পায়ের হাঁটুর উপর উঠে সেলাই করেছিল। সব কিছুই তাদের ভুল চিকিৎসা ছিল। ওই ডাক্তার তানিয়াকে কাছে পেলে তার হাঁটুর উপর উঠে ওভাবেই সেলাই করে দিতাম। অভিযুক্ত ডাক্তার, ক্লিনিক মালিক ও এর সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করছি। আর যেন আমার সুমির মত কারো ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু না হয়।

অভিযুক্ত ডাক্তার তানিয়া রহমান তনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে চাইনা। প্রয়োজনে ডাক্তারদের সংগঠন বা সিভিল সার্জন এর সাথে কথা বলতে পারেন। আমার যা বলার আমি কিছুদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছি। আর রাজশাহীতে সুমিকে নিয়ে যাওয়ার পর কি হয়েছে সে বিষয়ে আমি অবগত নয়।

এ প্রসঙ্গে কথা হলে সিভিল সার্জন মো. নজরুল ইসলাম ঢাকাপ্রকাশকে বলেন,‘তদন্ত কমিটি দুইটি গঠন করা হয়েছে ‘স্থানীয় তদন্ত কমিটি' ও রাজশাহী বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। স্থানীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) পরিচালকের তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই দুইটা মিলে ভূল কার নিশ্চিত হওয়া যাবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।’

বগুড়ায় সোনালী ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শিবগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় আনসার সদস্য ও নৈশ প্রহরীর হাত-পা বেঁধে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ মে) দিবাগত রাতে শিবগঞ্জ বন্দরে সোনালি ব্যাংকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আনসার ও নৈশ প্রহরীর মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে তারা।

সোনালী ব্যাংক শিবগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক শাহাদত হোসেন সিরাজী জানান, সোমবার রাতে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় ৮/১০ জনের মুখোশধারী সংঘবদ্ধ ডাকাতদল প্রথমে ব্যাংকের নৈশ প্রহরী আব্দুর রহমান এর হাত, পা, মুখ, বেঁধে পার্শ্ববর্তী বি, আর, ডি, সি অফিস চত্বরে বেঁধে রাখে। পরে ডাকাতদল সোনালী ব্যাংকের প্রধান ২ টি দরজার তালা ভেঙ্গে ২য় তলায় প্রবেশ করে। ব্যাংকের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য নয়ন হোসেন ও ফরহাদ হোসেন এর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ব্যাংকের স্টর রুমের হুইল ভেঙ্গে ভোল্ট রুমে প্রবেশ করতে গেলে ব্যর্থ হয়। পরে তাঁরা ২জন আনসার সদস্যর মোবাইল ও তাঁদের কাছে থাকা ২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ-সোনাতলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তানভীর হাসান জানান, একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় ব্যাংকের কোন টাকা ডাকাত দল নিয়ে যেতে পারেনি। এ ঘটনায় আজ শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

তৃতীয় ধাপে ৮৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু
পেটে গজ রেখেই সেলাই, মারা গেছেন সেই সুমি
বগুড়ায় সোনালী ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা
বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-কন্যাকে দুদকে তলব
কোনো অপরাধী শাস্তি ছাড়া পার পাবে না : সাবেক সেনাপ্রধান ও বেনজির প্রসঙ্গে কাদের
এমপি আনারের ৪ কেজি মাংস উদ্ধার
খালের পাড়ে বসছে সিসি ক্যামেরা, ময়লা ফেললেই আইনি ব্যবস্থা
চুয়াডাঙ্গায় ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম
বিরামপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধে স্কুল পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে পটুয়াখালী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিল স্পেন ও নরওয়ে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪-এর অজানা সব খবর
ঢাকা সফরে আসছেন আইএমও’র মহাসচিব
বেনজিরকে গ্রেফতারে আইনী কোন বাধা নেই: দুদক আইনজীবী
মানি লন্ডারিং: বেসিকের বাচ্চুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
আমি রেকর্ডের পেছনে ছুটি না, রেকর্ডই আমার পেছনে ছোটে: রোনালদো
তরুণরা তামাকের পেছনে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেন
বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকবে না: সৌদি
বিয়ের ১২ দিন পর জানলেন স্ত্রী একজন পুরুষ