বিজ্ঞান-তথ্যপ্রযুক্তি

উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করেছে পৃথিবীর কেন্দ্র! কী হতে পারে এর প্রভাব?


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:২৭ পিএম

উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করেছে পৃথিবীর কেন্দ্র! কী হতে পারে এর প্রভাব?
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর ওপরে যা কিছু ঘটে তা আমরা সহজেই দেখতে পারি। কিন্তু ভূগর্ভের গভীরে, কেন্দ্র পর্যন্ত কী ঘটছে—তা এখনও রহস্যে ঘেরা। বিজ্ঞানীরা বছরের পর বছর গবেষণা করেও পৃথিবীর অভ্যন্তরের অল্প কিছু বিষয়ই জানতে পেরেছেন। তবে সম্প্রতি পাওয়া এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এএফপি জানায়, পৃথিবীর কেন্দ্র এখন আর বাহ্যিক স্তরের মতো একই অভিমুখে ঘুরছে না; বরং এটি ঘুরছে উল্টো দিকে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, এর আগে পৃথিবীর কেন্দ্র কিছু সময়ের জন্য ঘূর্ণন থামিয়েও দিয়েছিল। এরপরই শুরু হয়েছে বিপরীতমুখী ঘূর্ণন।

‘নেচার জিওসায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবীর কেন্দ্র হঠাৎ করে নিজের ঘূর্ণন থামায় এবং কয়েক বছরের ব্যবধানেই আবার বিপরীত দিকে ঘুরতে শুরু করে। গবেষকদের দাবি, বর্তমানে পৃথিবীর কেন্দ্র ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘুরছে। বিষয়টি নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালে পৃথিবীর কেন্দ্র প্রথমবার থেমে যায়। এরপর থেকেই এটি উল্টোদিকে ঘূর্ণন শুরু করে। চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই তথ্য উন্মোচন করেছেন। তাদের মতে, প্রায় প্রতি ৩৫ বছর অন্তর পৃথিবীর কেন্দ্র নিজের ঘূর্ণনের দিক পরিবর্তন করে থাকে। তবে অনেক সময় এই ব্যবধান ৭০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।

১৯৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে প্রথমবার বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর কেন্দ্রের ঘূর্ণন নিয়ে ধারণা পান। তাদের অনুমান অনুযায়ী, পরবর্তী বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে ২০৪০ সালের মাঝামাঝি সময়ে।

 

biggan-1-Dhaka Prokah News-17-09-2025.jpg
ছবি: সংগৃহীত

পিকিং ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ১৯৯৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ভূমিকম্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, কেন্দ্রের ঘূর্ণনের পরিবর্তন পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যেহেতু পৃথিবী নিজের অক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘুরছে, কেন্দ্রের ভিন্নধর্মী ঘূর্ণন তার গতিপ্রকৃতিতে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

এমন খবর শোনার পর অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে—এতে কি প্রাণীকুলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে? গবেষকরা অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন, পৃথিবীর কেন্দ্রের ঘূর্ণনের এই পরিবর্তন পৃথিবীর পৃষ্ঠে বসবাসকারী প্রাণীকুলের ওপর কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে না। এ ধরনের পরিবর্তন টেরও পাওয়া যাবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।