অর্থনীতি

অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪৩ কোটি টাকা উধাও, অভিযুক্ত কর্মকর্তা পলাতক


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪৩ কোটি টাকা উধাও, অভিযুক্ত কর্মকর্তা পলাতক
ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখার ভল্ট থেকে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ব্যাংকের ওই শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার সময় বিষয়টি উদঘাটিত হয়। তদন্তটি পরিচালনা করেন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মেহেদী রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি নিরীক্ষা দল। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আনোয়ারুজ্জামান, খালেদ মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন, প্রিন্সিপাল অফিসার কাজী মো. সোলায়মান হোসেন, দেবাশীষ মল্লিক, মো. ইকবাল কবীর এবং একেএম ফজলুল করিম।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত দুই বছর ধরে অগ্রণী ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখা থেকে ধাপে ধাপে মোট ৪৩ কোটি টাকা সরানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যাংকের রংপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকার ইসলামী ব্যাংকিং শাখা থেকে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া ওই শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফের অ্যাকাউন্টেও ৪৫ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছিল।

তবে সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফ এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি আলিমুল আল রাজি তমালের কাছ থেকে ৪৫ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন এবং সেই পাওনা টাকা তমাল পরিশোধ করেছেন। ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেন।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা সহকর্মীদের কয়েকজনের অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে এসব টাকা আত্মসাৎ করেন। এই জালিয়াতি কার্যক্রম চলছিল ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আলিমুল আল রাজি তমাল একা জড়িত নন, আরও অনেকের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এ বিষয়ে গভীর তদন্ত প্রয়োজন বলেও তারা মনে করেন।

সৈয়দপুর শাখার ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান বলেন, আইটি বিভাগের গাফিলতির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে টাকা সরানোর বিষয়টি তার নজরে আসেনি বলে তিনি জানান।

অভিযুক্ত আলিমুল আল রাজি তমালের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী সদরের কাঞ্চনপাড়ায়। তবে তিনি পরিবার নিয়ে রংপুর শহরের রহমতপুর এলাকায় বসবাস করতেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুতে তিনি সপরিবারে বিদেশে চলে গেছেন। তার বড় ভাই তুহিন সালেহীন জানিয়েছেন, তমাল বর্তমানে দুবাইয়ে রয়েছেন, তবে কেন তিনি সেখানে গেছেন সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

এ ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সৈয়দপুর শাখার ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। ব্যাংকের রংপুর বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।