তবে কি যুক্তরাষ্ট্রও বিভাজনের দিকে এগোচ্ছে?

০২ নভেম্বর ২০২০, ০১:২২ পিএম | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০১:৪৫ এএম


তবে কি যুক্তরাষ্ট্রও বিভাজনের দিকে এগোচ্ছে?
ছবি সংগৃহীত

আতাহার খান

সুতোর ওপর দিয়ে হাঁটছেন ট্রাম্প। যদি তিনি এই সুতো না ছিঁড়ে কঠিন বৈতরণীটি পার হয়ে যেতে পারেন তাহলে নিশ্চিত- যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, জাতি-বর্ণ-ধর্ম সব জায়গায় বিভাজনের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে দেখা দেবে! প্রশ্ন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র কি সেদিকেই এগোচ্ছে? হ্যাঁ কিংবা না, এই উত্তর পাওয়া যাবে আগামীকাল, বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর।

শেষ মুহূর্তে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে রিপাবলিকান আর ডেমোক্র্যাট শিবিরে। ইতোমধ্যে আগাম ভোট দিয়ে রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জো বাইডেন। ধারণা করা হচ্ছে, এবার ১১২ বছরের ইতিহাস ভেঙে সবচেয়ে বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ইউএস ইলেকশন প্রজেক্টের সৌজন্যে ‘দ্য গার্ডিয়ান’ তথ্যটি উল্লেখ করে আরও জানায়, সাত কোটির বেশি ভোটার ইতিমধ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

আগাম ভোটের এই উচ্চহার প্রসঙ্গে ইউএস ইলেকশন প্রজেক্টের কর্মকর্তা মাইকেল ডোনাল্ড বলেন, এ নির্বাচনে প্রায় ১৫ কোটি ভোটার ভোট দিতে পারেন।

ভোটারদের অংশগ্রহণের এই হার হয়তো শেষ অবধি প্রমাণ করবে, ট্রাম্প-বাইডেনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাই এ আগ্রহ ও উন্মাদনা সৃষ্টির কারণ। তাই বিজয়মালা কার গলায় ঝুলবে, তা আগে থেকে বলা অসম্ভব। তবে প্রায় সব জরিপে ট্রাম্প পিছিয়ে থাকার পরও তার জয় সম্ভব নয় ভাবার কোনো কারণ নেই। ২০১৬ সালের জরিপেও তিনি পিছিয়ে ছিলেন; কিন্তু শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প শিবির জয় ছিনিয়ে আনে তার অভিনব নির্বাচনী রণনীতির বদৌলতে।

ট্রাম্পের গত চার বছরের শাসনে আমেরিকায় জাতি-বর্ণ-ধর্ম ও রাজনীতিভিত্তিক বিভাজন অতিমাত্রায় বেড়ে গেছে। কট্টর রিপাবলিকানদের প্রায় ৯৪ শতাংশ আছে ট্রাম্পের পাশে। তারা নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। চরিত্রগতভাবেই ট্রাম্প হলেন আগ্রাসী, তাই তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিসহ বলে বেড়াচ্ছেন, বাইডেন ক্ষমতায় এলে আমেরিকা হবে একটি সমাজতান্ত্রিক দেশ।

সেখানে না থাকবে অর্থোপার্জনের স্বাধীনতা, না থাকবে ধর্মাচারের সুযোগ। এরকম এক জটিল অঙ্গনে জো বাইডেনকে পা ফেলে হাঁটতে হচ্ছে খুব সাবধানে।

আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে সাদা-কালো দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে নেই; কিন্তু তাই বলে জাতিগত বিদ্বেষ থেমে গেছে, এ কথা জোর দিয়ে বলার সময় এখনও আসেনি। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে সিভিল রাইট আন্দোলনের সময়ে, ১৯৬৮ সালের এপ্রিলে, মেমফিসের মোটেলের ব্যালকনিতে নিহত হন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। ডেমোক্র্যাট লিন্ডন জনসন তখন প্রেসিডেন্ট। সময়টাও ছিল নির্বাচনের বছর।

ওই ঘটনা দাউ দাউ করে আগুন জ্বালিয়ে দেয় গোটা আমেরিকায়। শুরু হয় কৃষ্ণাঙ্গদের আন্দোলন। বন্যার পানির মতো দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। কার্ফু জারি হয় উপদ্রুত এলাকাগুলোয়। এই অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের কাছে টেনে আনেন দক্ষিণপন্থী রিপাবলিকানরা। জয়ী হন রিপাবলিকান রিচার্ড নিক্সন। ১৯৬৮ সালের নির্বাচনে নিক্সন জেতেন শ্বেতাঙ্গদের উদ্বেগকে কাজে লাগিয়ে।

সেই একই সুর আবার উচ্চারিত হচ্ছে ট্রাম্পের কণ্ঠে। হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্রে উগ্র শ্বেতাঙ্গবাদী প্রবণতা প্রকাশ্যে না হলেও, দূর হয়নি। এখনও আছে অভিবাসীদের প্রতি হীন মানসিকতা পোষণ এবং এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই, মার্কিন সমাজের মানসিকতাকে বর্ণ-নিরপেক্ষ সমতলে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। এমন অনাকাক্সিক্ষত রূঢ় সত্য সমাজে লুকিয়ে থাকার পরও এক ডেমোক্র্যাট কৃষ্ণাঙ্গ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন পরপর দু’বার।

বলতে আপত্তি নেই, কালোদের অবস্থাও বেশ পাল্টে গেছে। সেই কৃষ্ণাঙ্গ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে বাইডেনের পক্ষে মাঠে নামানো হয় শ্বেতাঙ্গ ভোটার তো বটেই; হিস্পানিক, অভিবাসী এবং ১৪ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের মনোযোগ আকর্ষণ করানোর লক্ষ্যে।

ট্রাম্পের জাতিগত বিদ্বেষী মনোভাবের কথা সবারই জানা। তাই সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠবে, কেন তিনি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বিদ্বেষী, সাদা ও কালো বিভাজনের পক্ষপাতী? এর পেছনে নিশ্চয়ই তার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে! হয়তো আপাতদৃষ্টিতে ট্রাম্পের এসব কর্মকাণ্ড এক উগ্র বর্ণবাদী বেয়াকুবের অসংলগ্ন আচরণ বলে মনে হতে পারে।

কিন্তু এভাবে সরলীকরণের অর্থ হল তার মূল উদ্দেশ্যটাই আড়াল করা। হ্যাঁ, ট্রাম্পের কথাবার্তায় ডেমোক্র্যাট, সমাজতান্ত্রিক ও উদারনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর সমর্থকরা অসন্তুষ্ট হচ্ছেন, এমনকি রিপাবলিকান পার্টির অভিজাতরাও ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। তবু মানতেই হবে, তিনি কথাগুলো বলেছেন ইচ্ছে করে এবং বিশেষ একটি পরিকল্পনা সামনে নিয়ে।

সেটি হল, তিনি সচেতনভাবেই মার্কিনিদের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ ও অশ্বেতাঙ্গ বিভেদরেখা জাগিয়ে তুলতে চান। প্রায় ৭০ শতাংশ সাদা মানুষের একটা বড় অংশকে তিনি বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন, এটি হল তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই। এ লড়াইয়ে থেমে গেলে পিছিয়ে পড়তে হবে। বৃহত্তর এ শ্রেণির মধ্যে ট্রাম্প রীতিমতো নোংরা জাত্যাভিমান উসকে দিয়েছেন। গত নির্বাচনে এই জঘন্য কৌশল প্রয়োগ করে তিনি বিজয় তালুবন্দি করেছিলেন ঠিকই; কিন্তু এবারের অবস্থা ভিন্ন।

এটা ব্যবসায়ী ট্রাম্প খুব ভালো করেই জানেন। তাই ভেবেচিন্তে এগোচ্ছেন। হাতে আছে তার দুটি মোক্ষম দাওয়াই। এর একটি হল অর্থনৈতিক দুরবস্থা কাটাতে নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থা, আরেকটি হল সুপ্রিমকোর্টে একজন রক্ষণশীল বিচারপতি নিয়োগ। এ দুই দাওয়াইয়ের শেষটি ইতোমধ্যে সফলভাবে প্রয়োগ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

৪৮ বছর বয়সী অতি রক্ষণশীর এক ক্যাথলিক অ্যামি কোনি ব্যারেট নতুন বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি প্রয়াত উদারনৈতিক বিচারপতি রুথ বেইডার গিন্সবার্গের স্থলাভিষিক্ত হলেন। এই নির্বাচন যদি আদালতে গড়ায় তাহলে রক্ষণশীল বিচারকদের সিদ্ধান্ত অনুকূলে থাকবে, এমনটাই মনে করছে ট্রাম্প শিবির।

যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। সেখানকার সংখ্যালঘুরা মোটেও সন্তুষ্ট নয় ট্রাম্পের ওপর। ১৪ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ তো বটেই; তার ওপর সম্প্রতি চটে আছে আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরা। গত ২২ অক্টোবর শেষ বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে আহত হন ভারতীয় ভোটাররা।

টেনেসির ন্যাশভিলেতে বাইডেনের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্বাচনী বিতর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ভারতের পরিবেশের দিকে তাকান। কী নোংরা সেখানকার পরিবেশ! পরিবেশ দূষণ নিয়ে ভারতকে এভাবে কটাক্ষ করায় ক্ষুব্ধ ভারতীয়রা। আরও ক্ষুব্ধ চারটি রাজ্যের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হিস্পানিক জনগোষ্ঠী। ট্রাম্প নানা সময়ে তাদের গালমন্দ করে ছেড়েছেন।

অথচ এই হিস্পানিক ভোটাররাই বেশ ক’টি অঙ্গরাজ্যে সরাসরি জয়-পরাজয় নির্ধারণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই লেটিনো ভোটাররাই হলেন ফ্লোরিডা (২০ শতাংশ), টেক্সাস (৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ ), নেভাদা (২৯ দশমিক ২ শতাংশ) ও অ্যারিজোনা (৩১ দশমিক ৭ শতাংশ) অঙ্গরাজ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক শক্তি। বিষয়টি জানার পরই হিস্পানিক অধ্যুষিত রাজ্যগুলোয় নির্বাচনী প্রচারণায় জোর দেয় রিপাবলিকান শিবির। ট্রাম্প নিজেও আস্তানা গাড়েন ফ্লোরিডায়।

অন্যদিকে জো বাইডেনও ছিলেন ভীষণ সতর্ক। সবার মনোযোগ ও সহানুভূতি আদায় করার লক্ষ্যে রাত-দিন কাজ করে গেছেন তিনি। এ জন্য তাকে বেছে নিতে হয় নতুন এক পথ। তার মন্ত্র হল দ্বিখণ্ডিত নয়, ঐক্যবদ্ধ দেশ ও জাতি চাই। কোভিডোত্তর পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য দরকার এই ঐক্য। হাউস ও সিনেটের বিভেদে গত চার বছর বারবার থেমে গেছে আমেরিকান অর্থনীতির চাকা।

শুধু প্রথাগত রাজনৈতিক আদর্শের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া যাবে না। ফলে বাইডেন রাখঢাক না করেই কর্পোরেট আমেরিকা থেকে সাহায্য নিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি বা লিঙ্গভিত্তিক পারিশ্রমিক-বৈষম্যের অবসান ঘটানোর। নারী ও তরুণ ভোটারদের নিয়ে বাইডেনের আশা বেশি।

সমাজের এ দু’অংশের স্বার্থের কথা ভেবে তাকে দিতে হয়েছে দুই বিলিয়ন ডলারের এক ‘গ্রিন নিউ ডিল’ ঘোষণা। সেই টাকা কর্পোরেট আমেরিকাকে না রাগিয়ে কীভাবে তোলা যায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়; আর সে প্রশ্ন তুলতেও উৎসাহী নন শিক্ষিত, উদারপন্থী আমজনতা। ট্রাম্পকে হারাতেই তারা বদ্ধপরিকর। তাই বাইডেনের বহু প্রতিশ্রুতি বাস্তবসম্মত নয় জেনেও তারা বিশ্লেষণে যেতে চান না।

তবে আসল হিসাবটি হবে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটে। ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল ভোটের অর্ধেকের বেশি যে দল তালুবন্দি করতে পারবে সেই দলই গলায় পরবে বিজয় মালা। সপ্তাহ দুই আগে সিএনএন যুক্তরাষ্ট্রের ইলেক্টোরাল ভোট নিয়ে নতুন একটি জরিপ প্রকাশ করে। তাতে দেখানো হয়, ইলেক্টোরাল কলেজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বেশ এগিয়ে আছেন জো বাইডেন।

সিএনএন প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইডেনের পকেটে নিশ্চিতভাবে ২০৩টি ইলেক্টোরাল ভোট রয়েছে। এর বাইরে ৮৭টি ইলেক্টোরাল ভোট তার দিকে ঝুঁকে আছে। ফলে বাইডেনের ইলেক্টোরাল ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা ২৯০টি। এর বিপরীতে ট্রাম্পের অবস্থা বেশ নাজুক। তার পকেটে আছে নিশ্চিতভাবে ১২৫ ইলেক্টোরাল ভোট।

এর বাইরে আরও ৩৮টি ভোট যুক্ত হতে পারে। নানামুখী জরিপের ফলাফলে বাইডেন ১০ থেকে ১২ শতাংশ সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন সত্য, তারপরও দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর কেউই স্বস্তিতে নেই। দু’দলের নীতিনির্ধারকরা গলদঘর্ম। তারা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, ধর্ম-বর্ণ-জেন্ডার ও বয়সের ব্যবধানে কোন অংশের সমর্থন কোন দিকে গড়ায়, এসব চুলচেরা বিশ্লেষণ নিয়ে পার করছেন ব্যস্ত সময়।

তবে সর্বশেষ বিতর্কে জো বাইডেন মুখ ফুসকে বলে ফেলেছেন, নির্বাচিত হলে তার প্রশাসন জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসবে এবং সৌরশক্তি ও বাতাসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের দিকে মনোযোগ দেবে। কথাটা বলার পরই তিনি বুঝতে পেরেছেন, এটা এ সময়ে বলা তার ঠিক হয়নি। কারণ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই কোটি মানুষের রুজি-রুটি হুমকিকবলিত হয়ে পড়বে। তাই তিনি বিতর্ক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে তার প্রশাসন তেল-গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করবে না।

কিন্তু রিপাবলিকান শিবির তো আর বসে থাকেনি। এর মোক্ষম জবাব দেয়ার জন্য তারা গত ২৩ ও ২৪ অক্টোবর তেল-গ্যাসের পক্ষে দিনব্যাপী প্রচারণায় নামে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাইডেনের জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার কথা ছড়িয়ে দিয়ে ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা। সেটি যদি রিপাবলিকান শিবির সফলভাবে করতে পারে, তাহলে পেনসিলভানিয়ার রায় ট্রাম্পের দিকে টেনে আনা অসম্ভব নয়। মনে রাখা দরকার, এই পেনসিলভানিয়ায় ২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারি হেরেছিলেন সামান্য ভোটের ব্যবধানে।

নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্টসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের প্রভাবশালী পত্রিকাগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক রকম খরচের খাতায় ফেলে রেখেছে। তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের অযোগ্য বলে ঘোষণাও দিয়েছে। আরও বলেছে, ট্রাম্পের গত চার বছরে দেশের ভেতরে ও বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রভাবশালী এসব পত্রিকার ভাষ্য অনুযায়ী মনে হওয়া স্বাভাবিক, ট্রাম্প সত্যিই ঝুঁকি নিয়ে সুতোর ওপর দিয়ে হাঁটছেন।

হিসাব উলটানোর আশায় জো বাইডেনের ছেলেকে নিয়ে ট্রাম্প শিবির ষড়যন্ত্রের যে তত্ত্ব হাজির করেছিল, তাও কোনো ফল বয়ে আনেনি। তাহলে কী ঘটতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্রে? সত্যিই কি ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে, নাকি ২০০০ সালের আল গোর-বুশের মতো এই নভেম্বরের নির্বাচনও আদালত পর্যন্ত গড়াবে? এসব প্রশ্নের উত্তরের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত।

ট্রাম্পের আমেরিকা ট্র্যাজেডি হল বিভাজনের দুরতিক্রম্য দেওয়াল খাড়া করা। আগামীকাল ৩ নভেম্বর অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের অনুমান ও মতামত জরিপের ফলাফল ভুল প্রমাণ করে ট্রাম্প যদি আবার প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে এই অতিবিভাজনের ফাঁদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিস্তার পাওয়ার আর কোনো পথই খোলা থাকবে না।

আতাহার খান : নির্বাহী সম্পাদক, দেশ; মুক্তিযোদ্ধা, কবি