আইন আদালত

আশুলিয়ায় ৬ যুবককে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর মামলায় আজ অভিযোগ গঠনের আদেশ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৫, ১২:০৭ পিএম

আশুলিয়ায় ৬ যুবককে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর মামলায় আজ অভিযোগ গঠনের আদেশ
ছবি: সংগৃহীত

আশুলিয়ায় ৬ জন যুবককে গুলি করে হত্যা ও পরে লাশ পুড়িয়ে ফেলার মর্মান্তিক ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত ১৬ জনের বিচার শুরু হবে কি না, তা জানা যাবে আজ।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেবেন। আদেশের মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে চলমান আন্দোলনের সময় আশুলিয়ায় সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। ৫ আগস্ট পুলিশের গুলিতে ৬ তরুণ প্রাণ হারান। পরে তাদের লাশ একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভয়াবহতার চূড়ান্ত রূপ ছিল এই যে, নিহতদের মধ্যে একজন তখনও জীবিত ছিলেন। তাকেও রেহাই দেওয়া হয়নি—পেট্রল ঢেলে জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারা হয়।

ঘটনার প্রায় এক মাস পর, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়। এর আগে ২ জুলাই প্রসিকিউশন ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযোগপত্রে ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র, ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

অভিযুক্তদের মধ্যে আটজনকে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছে পুলিশ। তবে সাবেক সাংসদ সাইফুল ইসলামসহ বাকি আটজন পলাতক রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চালাতে সরকারি খরচে দুইজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ জুলাই ট্রাইব্যুনাল পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।

প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে গত ৭ আগস্ট অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি শেষ করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম। পরে ১৩ আগস্ট আসামিপক্ষের শুনানি সমাপ্ত হয়। সবশেষে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিনটি আদেশ ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করে।

দেশজুড়ে আলোচিত এই মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হলে আশুলিয়ার ভয়াবহ ওই হত্যাযজ্ঞের দায়ীদের শাস্তির প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ও সচেতন নাগরিক সমাজ।